রাজধানীর সাইনবোর্ডে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ: কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

এম এ মান্নান : রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকায় রাজউকের (রাজুক) নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই ‘মিলেনিয়াম টাওয়ার’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার বৈধ নকশা বা অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
নেই রাজউকের অনুমোদন ও নকশা :অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাইনবোর্ড এলাকার আলমস হোটেলের পেছনে নির্মাণাধীন এই মিলেনিয়াম টাওয়ারের কোনো বৈধ লেআউট প্ল্যান নেই। এমনকি রাজউকের নথিপত্রেও এই ভবনের কোনো অফিসিয়াল সিরিয়াল নম্বর বা অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে জনবহুল এলাকায় এমন একটি বিশাল স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ ও আইন অমান্য :ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পাশের সীমানা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ (৫ থেকে ৬ মিটার) জায়গা বা ‘সেটব্যাক’ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মিলেনিয়াম টাওয়ারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশের ভবনের সাথে পর্যাপ্ত দূরত্ব না রেখেই নির্মাণকাজ চলায় এটি ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রতারণার ফাঁদ ও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা : স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ করে বলেন, কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে ফ্ল্যাট বুকিং নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের পেছনে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা মোহিউদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, তিনি তার পূর্ব পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ এই কাজকে জায়েজ করতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন : প্রকাশ্যে এমন অবৈধ নির্মাণ কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই প্রকল্পের তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ যেন প্রতারিত না হয় সেজন্য নির্মাণকাজ বন্ধ করা আবশ্যক।
সতর্কবার্তা :সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের প্রতি সচেতন মহলের আহ্বান— যেকোনো আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ বা ফ্ল্যাট কেনার আগে রাজউকের অনুমোদন, নকশা এবং জমির সঠিক কাগজপত্র যাচাই করে নিন। অনুমোদনহীন প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করে নিজের কষ্টের উপার্জন ঝুঁকিতে ফেলবেন না।



