রাজউক উপ-পরিচালক নাদিমুল ইসলাম, দুর্নীতি ও শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর অর্থ বিভাগের উপপরিচালক নাদিমুল ইসলামের বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমিত আয়ের পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি বর্তমানে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার উৎস নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাদিমুল ইসলাম দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। একসময় তাদের পরিবারে চরম আর্থিক অনটন ছিল।
তবে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর ধীরে ধীরে তার আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজউকে ঘুষ, অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন।
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সে সময় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সহকর্মীদের কেউ কেউ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের ভাঙা কুঁড়েঘরের জায়গায় এখন নির্মিত হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি।
পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় কয়েক দশ বিঘা জমি কেনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদের মালিকানার অভিযোগও উঠেছে।
রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নাদিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অভিযোগ থাকলেও সেগুলো কখনোই দৃশ্যমান তদন্তে রূপ পায়নি। বরং প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাদিমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন রয়ে গেছে,সরকারি বেতনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে এত বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়?
পরবর্তী পর্বে প্রকাশিত হবে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য।



