মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে খুনী গ্রেফতার

আহসানুজ্জামান, সোহেল : কুসিক সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কালীয়াজুড়ি নামক এলাকায় মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে কথিত কবিরাজ মোবারক হোসেন (২৯)। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস একটি টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয়েছে ।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ সুত্রে জানায়, নিহত তাহমিনা বেগম ফাতেমা (৫২) ও তার মেয়ে সুমাইয়া আফরিন রিনথি (২৩)—যিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তারা—প্রায় চার বছর ধরে কালীয়াজুড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বড় ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৪) ও ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০) সেখানেই থাকতেন।
কুমিল্লায় বাস-পিকআপ সংঘর্ষ: গুরুতর আহত চালকসহ আহত ৩। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাসায় ফিরে তাজুল ইসলাম দেখেন দরজা খানিকটা খোলা। পরে সাইফুল ইসলাম বাসায় ফিরে বোনকে ডাকতে গিয়ে ঠান্ডা শরীর স্পর্শ করলে বিষয়টি টের পান। এরপর মায়ের শরীরও একইভাবে নিথর দেখতে পান। চাদর সরাতেই দেখা যায় মুখ ফুলে গেছে এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোবারক হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন—তাহমিনা বেগম তার মেয়ে রিনথিকে জ্বীন-ভূতের কবল থেকে মুক্ত করতে তাকে ঝাড়ফুঁকের জন্য বাসায় আনতেন। এ সুবাদে মোবারক প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
ব্রাহ্মণপাড়ায় সিকল কেটে মোটরসাইকেল চুরি, তিন চোর গ্রেফতার ঘটনার দিন সকালে সে ঝাড়ফুঁকের নাম করে বাসায় যায় এবং দুপুরে ফেরত এসে রিনথিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেললে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে রিনথিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ চুরি করে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতার ও উদ্ধার: গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকার উদ্দেশ্যে পালানোর আগে মোবারককে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে নিহতদের চুরি হওয়া চারটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও চার্জারসহ আলামত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামী দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলেও তথ্য-প্রযুক্তি ও পুলিশের পেশাদারিত্বের কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।


