
অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ
১. প্রেক্ষাপট ও উত্থাপিত অভিযোগ: সারা বিশ্বে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদ ও রাজনৈতিক বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ–সাপোর্টে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর—তিনি তখন অজ্ঞান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম অবস্থায় ছিলেন;
সেই দিনই তাঁর নামে ৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়;
অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই মনোনয়নপত্রে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ছিল জাল বা অনুমতিবিহীন পরদিন ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬:০০ ঘটিকায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়—এমন দাবিও রাজনৈতিক পরিসরে উত্থাপিত হয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক অনৈতিকতা নয়—বরং বিদ্যমান ফৌজদারি আইনে গুরুতর অপরাধের শামিল।
২.গুরুত্বপূর্ণ নোট: উপরোক্ত বিষয়গুলো অভিযোগ ও রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত; এগুলোর সত্যতা নির্ধারণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার।
৩. কোন কোন আইন প্রযোজ্য হতে পারে: অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে নিম্নোক্ত আইনসমূহ প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—
ক. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code)
ধারা ৪৬৩ ও ৪৬৪: জালিয়াতি (Forgery)
ধারা ৪৬৮: প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল প্রস্তুত
ধারা ৪৭১: জাল দলিল ব্যবহার
ধারা ৪২০: প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে সুবিধা অর্জন
খ. নির্বাচন আইন, ২০১৮
মনোনয়নপত্রে মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া সম্মতি প্রদান
প্রার্থীর যোগ্যতা ও সম্মতির বিষয়ে প্রতারণা
নির্বাচন প্রক্রিয়ার পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা
এই অপরাধগুলো জামিন অযোগ্য ও কারাদণ্ডযোগ্য হতে পারে—বিশেষত যদি প্রমাণ হয় যে একজন সংজ্ঞাহীন বা সিদ্ধান্তে অক্ষম ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
৪. দায় কার—জমাদানকারী না গ্রহণকারী: আইনগতভাবে দায় কেবল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যারা মনোনয়নপত্র প্রস্তুত ও জমাঔঝ দিয়েছেন, যারা স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই না করেই গ্রহণ করেছেন, এবং যেসব কর্মকর্তা পরিস্থিতি জেনেও যথাযথ অনুসন্ধান করেননি, তাঁদের প্রত্যেকের দায় নির্ধারণের প্রশ্ন ওঠে। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—এর দায়িত্ব কেবল ফাইল গ্রহণ নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা ও নৈতিক স্বচ্ছতা কমিশনের নীরবতা: সাংবিধানিক প্রশ্ন এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দেয়—
কমিশন কি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল না, নাকি অবগত থেকেও নীরব থেকেছে?
কোনো প্রাথমিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে কি না?
একজন লাইফ–সাপোর্টে থাকা ব্যক্তির সম্মতি যাচাই করা কমিশনের দায়িত্বের আওতায় পড়ে কি না?
নীরবতা এখানে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় আস্থার সংকট তৈরি করে।
৫. গণতন্ত্র ও নৈতিকতার সংকট: যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি একটি ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে অপরাধ নয়—
এটি ভোটাধিকার, প্রার্থী সম্মতি ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
একজন অজ্ঞান বা সিদ্ধান্তহীন মানুষের নামে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া মানে হলো—
গণতন্ত্রকে একটি শূন্য খোলসে পরিণত করা।
৬. উপসংহার ও দাবি: এই অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য—
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ± –? স্বাধীন তদন্ত জরুরি;
মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন;
প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত;
সত্য উদ্ঘাটিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—যাতে ভবিষ্যতে কেউ মৃতপ্রায় বা সংজ্ঞাহীন ব্যক্তিকে ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সাহস না পায়। গণতন্ত্র কাগজে নয়, নৈতিকতায় বাঁচে। আর নৈতিকতার মৃত্যু ঘটলে—নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রতারণায় রূপ নেয়।



