যে কেউ অন্যের ক্ষতি করে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«من ضارّ، ضارّ الله به، ومن شاقّ، شاقّ الله عليه»
“যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন; আর যে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তার প্রতি কষ্টের ব্যবস্থা করবেন।”📚 সুনান আবু দাউদ (হাদীস: ৩৬৩৫)
🔹 এই হাদীসটি আমাদের শেখায়—কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বান্দাদের কষ্ট দিলে আল্লাহ নিজেই তার প্রতিশোধ নেন। এটি আল্লাহর ইনসাফ এবং হক্কুল ইবাদ (বান্দার অধিকার)-এর প্রতি গুরুত্বের স্পষ্ট প্রমাণ।
আল্লাহ যার ক্ষতি চান, কেউ তাকে রক্ষা করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِن يَنصُرْكُمُ ٱللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۖ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا ٱلَّذِى يَنصُرُكُم مِّنۢ بَعْدِهِ ۗ
“আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কেউ তোমাদের হারাতে পারবে না। আর যদি তিনি তোমাদের ছেড়ে দেন, তবে কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে?”📚 সূরা আলে ইমরান ৩:১৬০
🔸 আল্লাহ বান্দার ক্ষতির প্রতিশোধ নেন → কেউ অন্যের হক নষ্ট করলে, আল্লাহ নিজেই তার বিচার করেন।
বাস্তব উদাহরণ:
ফিরআউন:
বনি ইসরাঈলের ওপর চরম অত্যাচার করেছিল। পরিণামে আল্লাহ তাকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করলেন। কেউ তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
কারুন:
অহংকার ও সম্পদের দ্বারা মানুষের ক্ষতি করত। আল্লাহ তাকে ও তার ধনভাণ্ডারকে ধ্বংস করলেন।
فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ ٱلْأَرْضَ
“অতঃপর আমি তাকে এবং তার গৃহকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দিলাম।”📚 সূরা কাসাস: ৮১
⚠ আমাদের জন্য সতর্কবার্তা:
🔻 কারো প্রতি জুলুম, কষ্ট, মিথ্যা অপবাদ, হক নষ্ট, মানহানি – এসবই আল্লাহর গজব ডাকতে পারে।
🔻 একবার কেউ আল্লাহর গজবের আওতায় পড়লে, কেউ তাকে রক্ষা করতে পারবে না—না মাল, না শক্তি, না পরিবার।
🔻 তাই, বান্দার হক সংরক্ষণ করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং ঈমানদারিত্বের অঙ্গ।
👉 যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দার ক্ষতি করে, আল্লাহ তার শত্রু হয়ে যান।
👉 আল্লাহ যদি কারো বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, কেউ তাকে রক্ষা করতে পারবে না।
👉 এই জন্যই রাসূল ﷺ বলেন:
اتق دعوة المظلوم، فإنه ليس بينها وبين الله حجاب
“জুলুমগ্রস্তের দোআ থেকে বাঁচো, কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।”📚 সহীহ বুখারী (২৪৪৮), মুসলিম
আল্লাহ আমাদেরকে মুসলিম ভাইদের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দিন।
আল্লাহ আমাদেরকে জুলুম, কষ্ট প্রদান ও হক নষ্ট করা থেকে হেফাজত করুন।
আমিন।



