✨ মায়ের দোয়া ও জান্নাতের প্রতিবেশী: হযরত মুসা (আঃ) ও সেই ভাগ্যবান কসাই 🐄

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ হযরত মুসা (আঃ) ছিলেন ‘কালিমুল্লাহ’—যিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতেন। একদিন তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, “হে আমার পালনকর্তা! জান্নাতে আমার পাশের সঙ্গী কে হবে? আমি কি দুনিয়াতেই তাকে একবার দেখতে পারি?”
আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আঃ) এসে খবর দিলেন, “হে মুসা! অমুক শহরের এক সাধারণ কসাই হবে জান্নাতে আপনার চিরস্থায়ী সঙ্গী।”
মুসা (আঃ) কিছুটা অবাক হলেন। একজন নবী হিসেবে তিনি হয়তো আশা করেছিলেন তাঁর সঙ্গী হবেন অন্য কোনো মহান আবেদ বা সাধক। কৌতূহল মেটাতে তিনি ছদ্মবেশে সেই কসাইয়ের দোকানে গিয়ে হাজির হলেন।
১. সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনঃ মুসা (আঃ) সারাদিন দোকানে বসে যুবকটির কাজ লক্ষ্য করলেন। দেখলেন লোকটি খুব স্বাভাবিকভাবে গোশত বিক্রি করছে, ওজন দিচ্ছে। এর বাইরে বিশেষ কোনো নফল ইবাদত বা তাসবিহ পাঠের আধিক্য তাঁর নজরে পড়ল না।
সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে কসাই লোকটি এক টুকরো ভালো গোশত পোটলায় ভরে বাড়ির দিকে রওনা হলো। মুসা (আঃ) মেহমান হওয়ার অছিলায় তাঁর পিছু নিলেন। যুবকটি সানন্দে তাঁকে নিজের বাড়িতে জায়গা দিল।
২. ঝুড়ির ভেতর লুকানো রহস্যঃ বাড়িতে পৌঁছে কসাই যুবকটি নিজ হাতে সুস্বাদু খাবার রান্না করল। এরপর সে ঘরের ওপর থেকে ঝুলন্ত একটি বড় ঝুড়ি নামিয়ে আনল। মুসা (আঃ) দেখলেন, সেই ঝুড়ির ভেতর অতি বৃদ্ধা এক নারী শুয়ে আছেন—যিনি বার্ধক্যের ভারে নড়াচড়া করার শক্তিও হারিয়েছেন।
যুবকটি পরম মমতায় বৃদ্ধাকে গোসল করাল, পরিষ্কার কাপড় পরিয়ে দিল। তারপর অতি যত্নে লোকমা তুলে তাঁকে খাইয়ে দিল। সবশেষে তৃপ্তির সাথে বৃদ্ধা কিছু একটা বিড়বিড় করে বললেন, যা মুসা (আঃ) স্পষ্ট বুঝতে পারলেন না। কাজ শেষ করে যুবকটি আবার ঝুড়িটি উপরে তুলে রাখল।
৩. জান্নাতের সেই অমূল্য সওদাঃ খাওয়া-দাওয়ার পর মুসা (আঃ) যুবককে জিজ্ঞেস করলেন, “হে যুবক! এই বৃদ্ধা কে? আর খাবার শেষে তিনি অস্পষ্ট স্বরে কী বলছিলেন?”
যুবকটি হাসিমুখে উত্তর দিল, “ইনি আমার মা। আমি ছাড়া দেখাশোনা করার কেউ নেই। আমি প্রতিদিন এভাবেই মায়ের সেবা করি। আর মা খুশি হয়ে যখনই বিড়বিড় করেন, তখন আসলে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন— ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে ক্ষমা করো এবং জান্নাতে মুসা নবীর সঙ্গী বানিয়ে দাও’।”
মুসা (আঃ)-এর চোখ তখন অশ্রুসিক্ত। তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন:
“হে যুবক! সুসংবাদ নাও। আমিই সেই মুসা। আল্লাহ তোমার মায়ের দোয়া কবুল করেছেন। জান্নাতে তোমার জন্য আমার পাশের স্থানটি নির্ধারিত হয়ে গেছে!”
গল্পের শিক্ষা:
পিতামাতার সেবার মর্যাদা: দীর্ঘ ইবাদত বা বিশেষ জিকিরের চেয়েও বাবা-মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেবা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি প্রিয়।
মায়ের দোয়া: মায়ের অন্তরের প্রতিটি দোয়া আরশের মালিক সরাসরি কবুল করেন। এটিই হতে পারে জান্নাতে যাওয়ার সহজতম পথ।
বিনয়: কোনো কাজই ছোট নয়। একজন কসাই তাঁর নিষ্ঠা ও মানবিকতার মাধ্যমে একজন নবীর সমান মর্যাদা লাভ করতে পারেন।



