
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চিকিৎসা পেতে নদী পাড়ি দেওয়া চরের মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে জীবন-মরণের লড়াই। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনবল সংকট এবং কার্যত অচল কমিউনিটি ক্লিনিক এই জনপদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
গাইবান্ধার চরাঞ্চলের স্বাস্থ্য সংকট শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়। অবিলম্বে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এই সংকটের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। চরবাসীর দাবি স্পষ্ট- ভোটের সময় যেমন প্রার্থীরা চরে আসেন, চিকিৎসাসেবাও যেন তেমনি তাদের দুয়ারে পৌঁছে যায়।
চরবাসীরা স্পষ্ট করে তাদের দাবির কথা জানাচ্ছেন- চরাঞ্চলে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসাসেবা, নৌকা, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপদ রোগী পরিবহন ব্যবস্থা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করতে হবে।
চর বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম মনে করেন, ‘মোবাইল হেলথ ইউনিট, বোট অ্যাম্বুলেন্স এবং স্থানীয় যুবকদের প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। তবে আমরা চরের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছি।’
অপেক্ষায় চর, অপেক্ষায় মানুষ-
গাইবান্ধার চরাঞ্চলের এই মানুষগুলো উন্নয়নের গল্প শোনে দূর থেকে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার- সবই যেন নদীর ওপারের কোনো শহরের বিষয়। অথচ এই নদীর মাঝেই প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে জীবন, হারাচ্ছে জীবন।
চরবাসীর দাবি খুব বড় কিছু নয়। তারা শুধু চায়- অসুখ হলে যেন নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে নয়, সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারে।
নদী যেমন তাদের ঘিরে রেখেছে, তেমনি রাষ্ট্রও যদি একটু কাছে আসে- তবেই হয়তো চরের মানুষের অসুখ আর মৃত্যুর গল্পগুলো বদলাতে শুরু করবে।
নদীভাঙন যেমন চরবাসীর ঘর কেড়ে নেয়, তেমনি চিকিৎসা সংকট কেড়ে নিচ্ছে জীবন। সংবিধান যেখানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করেছে, সেখানে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষ এখনো সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত।
চরবাসীর জীবন যেন আর নৌকার দোলায় দোলায় শেষ না হয়- এই দায় শুধু চরবাসীর নয়, রাষ্ট্রেরও। এখন দেখার বিষয়, নদীর মাঝখানে আটকে থাকা এই মানুষগুলোর আর্তনাদ কবে নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায়।



