বিড়াল ও ইঁদুরের বিষ্ঠা মিশ্রিত বাসমতি চাল দিয়ে খাবার রান্নার প্রমাণ ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রামে ভোক্তা অধিকার অভিযানে ভয়াবহ অনিয়মের পর্দাফাঁস,পাঁচ প্রতিষ্ঠানে মোটা অঙ্কের জরিমানা
খাবারে কেমিক্যাল রং, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি চট্টগ্রামে একদিনে ভোক্তা অধিদপ্তরের কঠোর অভিযান
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ পাওয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে খাবার ও ওষুধের মানহীনতা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের মতো ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।
অভিযানের অংশ হিসেবে নগরের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘হালাল শেফ’(মিনা বাজারের পাশে)রেস্টুরেন্টে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সঙ্গে রান্না করা মাংস, ডাল, চটপটির ডাল, ভাত ও ফ্রাইড রাইস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি খাবার প্রস্তুতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল রং মেশানো মরিচ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ফয়সাল মেডিকোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।এছাড়া হীরা ফার্মাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রয়ের গুরুতর অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য এসব অনিয়ম মারাত্মক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
নাসিরাবাদ হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘৭ ডেজ’ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে।রান্নাঘরে অননুমোদিত কেমিক্যাল রং ব্যবহার, বাসমতি চালের ওপর বিড়াল চলাচল, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর চপিং বোর্ড ব্যবহার এবং বিড়াল ও ইঁদুরের বিষ্ঠা মিশ্রিত বাসমতি চাল দিয়ে খাবার রান্নার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,এ ধরনের অনিয়ম সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
এছাড়া শাহ আমীন সুপার শপে অননুমোদিত ও মূল্যবিহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পণ্যের গায়ে মূল্য তালিকা না থাকা ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানান কর্মকর্তারা।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ অভিযানে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা বলেও মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।



