নির্বাচনরাজনীতি

দ্বৈত নাগরিকত্বে ফজলুল হক নির্বাচনের বাইরে

মুহাম্মদ জুবাইর

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় বহাল থাকল বাতিল সিদ্ধান্ত,চট্টগ্রাম ৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী ফজলুল হক নির্বাচনের বাইরে

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি বাকলিয়া)আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন।এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আর অংশ নিতে পারছেন না।নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার(১২ জানুয়ারি)নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে ফজলুল হকের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়,দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বাতিল সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।ফলে আইন অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য নন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা দেখিয়ে এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো:জিয়াউদ্দীন।তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এ কে এম ফজলুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেন,তিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়,হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ থাকলেও তার পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথিপত্র জমা দেওয়া হয়নি।নির্বাচন আইন অনুযায়ী কেবল হলফনামা যথেষ্ট নয়,নাগরিকত্ব ত্যাগের সনদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি দাখিল করা আবশ্যক এমন অবস্থান নেয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে একই দিনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও জামায়াত প্রার্থী ছিটকে পড়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য,সারা দেশে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছে।গত শনিবার থেকে এসব আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে,যা আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি আপিল আইন ও বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বহাল থাকায় নির্বাচনী লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button