
নিজস্ব প্রতিবেদক | আলফাডাঙ্গা
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ইসলামি জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি (NCP)। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন সমঝোতার বিচারে দলটির এই সিদ্ধান্তকে ‘শতভাগ সঠিক’ ও ‘সময়োপযোগী’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোটে ৩০টি আসন নিশ্চিত করাকে এনসিপির জন্য বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এনসিপির এই জোটভুক্ত হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি কোনো সেক্যুলার দলের জোট নয়। ১১ দলীয় এই জোটটিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ৬টি ইসলামি দল এবং ৫টি সমমনা দল রয়েছে। জোটভুক্ত প্রতিটি দলই শরিয়াহ আইনের মাধ্যমে বিচার ফয়সালা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। এছাড়া ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জোটের দলগুলোর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, যা এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নির্বাচনী সমীকরণে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি। জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আসনগুলোতে শুধুমাত্র এনসিপির হেভিওয়েট নেতাদের অবস্থানই শক্তিশালী নয়, বরং এর মধ্যে এমন অনেক আসন রয়েছে যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল।
জানা গেছে, জোটের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী তাদের অধ্যুষিত এবং বিজয়ের সম্ভাবনা থাকা আসনগুলো থেকেও দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যাহারকৃত প্রার্থীসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির নেতাদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য।
মাঠপর্যায়ের জরিপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা বলছেন, এককভাবে নির্বাচন না করে সমমনা ইসলামি দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হওয়া এবং ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ছাড় পাওয়া এনসিপির জন্য একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।



