চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুল জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর অপরাধ জগতের আলোচিত ও আতঙ্কের নাম বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম রাজধানী ঢাকার গুলশান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে তার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে।একই সঙ্গে পাঁচলাইশ মডেল থানার পৃথক অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ আরও দুই সহযোগী গ্রেপ্তার এবং বন্দর থানার চাঞ্চল্যকর পাঠাও চালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে নগরীর অপরাধ দমনে বড় সাফল্য অর্জন করেছে সিএমপি।
মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্ মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
তিনি জানান মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় গঠিত একটি বিশেষ চৌকস টিম পাঁচলাইশ থানার আতুরারডিপো এলাকায় সংঘটিত আলোচিত স্বর্ণের বার দস্যুতার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বায়েজিদের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল এই দস্যুতার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. ঢাকার গুলশান থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বার্মা সাইফুল ও তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের নিয়ে স্বর্ণের বার দস্যুতার ঘটনায় লুণ্ঠিত অবশিষ্ট ৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে আসামি শিহাব উদ্দিনের হেফাজত থেকে ওই দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর ১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায় এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করেই দস্যুতার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার মামলা নম্বর ০১,তারিখ ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ধারা ৩৯৪ পেনাল কোড অনুযায়ী আসামিদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ২টি, প্রতারণায় ২টি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে ৫টি, অপহরণে ১টি, দস্যুতায় ১টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩টি, বিস্ফোরক আইনে ২টি এবং মারামারি ও জখম সংক্রান্ত ১৮টিসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলতবি রয়েছে।তার সহযোগী মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার ৫টি ও দস্যুতার ১টিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য স্বর্ণের বার লুণ্ঠণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯টি স্বর্ণের বার মোট ২৯০ ভরি এবং ঘটনায় ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল। পুলিশ বলছে এই দস্যুতা চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে নগরীতে সক্রিয় ছিল এবং এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চক্রটির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পাঁচলাইশ মডেল থানার বিশেষ অভিযানে বার্মা সাইফুলের আরও দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন (২৮) এবং মোহাম্মদ মীর হোসেন প্রকাশ লিংকন (৩১)।
পুলিশ জানায় সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুলের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ডাকাতি ছিনতাই দখলবাজি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন হিলভিউ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও দস্যুতাসহ ৫টি মামলা এবং মোহাম্মদ মীর হোসেন প্রকাশ লিংকনের বিরুদ্ধে মাদক চুরি দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৫টি মামলা রয়েছে। তাদের উভয়কেই যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন বার্মা সাইফুল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের ফলে বায়েজিদ পাঁচলাইশ খুলশী ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লাগবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন দীর্ঘদিন পর হলেও তারা কিছুটা নিরাপত্তা অনুভব করছেন।
সিএমপি সূত্র জানায় চট্টগ্রাম মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধ অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধী যেই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নগরবাসীর প্রত্যাশা এই অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আলোচিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীকে অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।



