মাদক সেবনের টাকার দাবিতে প্রাণ গেল ওজিয়রের গ্রেফতার মূলহোতা

মুহাম্মদ জুবাইর
মূল আসামি শহীদুল ইসলাম খোকন গ্রেপ্তার,উদ্ধার ছুরি ও হেলমেট
চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক পাঠাও চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো.শহীদুল ইসলাম খোকন (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল ইসলাম খোকন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার চরকিং ইউনিয়নের মৃত আবু তাহেরের ছেলে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম। তিনি জানান, নিহত ওজিয়র রহমান (৩৬) পেশায় একজন পাঠাও চালক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ওজিয়র রহমান মোটরসাইকেলযোগে নগরীর হালিশহর বন্দর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি মো.শহীদুল ইসলাম খোকনকে দেখে কোথাও যাবেন কিনা বলে জানতে চান।
এ সময় শহীদুল ইসলাম খোকন ওজিয়র রহমানকে জানান,তিনি কোথাও যাবেন না এবং ইয়াবা সেবনের জন্য তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করেন।হঠাৎ এই অপ্রত্যাশিত দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওজিয়র রহমান তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে শহীদুল ইসলাম খোকন তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে ওজিয়র রহমানের পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলেও ওজিয়র রহমান প্রাণ বাঁচাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বন্দর থানাধীন নতুন পোর্ট মার্কেট জামে মসজিদের বিপরীত পাশে বন্দর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছান।সেখানে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান।
স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পরপরই বন্দর থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম গঠন করে। প্রযুক্তিগত তথ্য, গোপন সংবাদ এবং প্রত্যক্ষ আলামতের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে ডবলমুরিং থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মূল অভিযুক্ত মো.শহীদুল ইসলাম খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি
নিহত পাঠাও চালকের একটি হেলমেটউদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি আব্দুর রহিম আরও জানান,গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পূর্বে ৫টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় নগরীর রাইড শেয়ারিং চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চালকরা বলছেন,গভীর রাতে যাত্রী বা পথচারীর সঙ্গে কথা বলাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত অপরাধ দমনে টহল জোরদার ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়,গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে নগরীতে মাদক ও ছিনতাই সংক্রান্ত অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।



