নিলাম ডাকের আগেই ব্রীজ ভেঙ্গে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ডাকের আগেই জন দূর্ভোগ সৃষ্টি করে পরিত্যক্ত ব্রীজ ভেঙ্গে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। তবে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ব্রীজ ভাঙ্গার নির্দেশনা পত্র আছে মর্মে জানালেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বললেন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
স্থানীয়দের দাবী, উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভেলার বাজার হতে ৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজিবপুর গ্রাম হয়ে রাজনীতির বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এটি কাঁচারাস্তা হলেও কয়েক গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। দক্ষিণ রাজিবপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলীর বাড়ী সংলগ্ন এ রাস্তার ওপর একটি ব্রীজ দীর্ঘ দিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ স্থানে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের কথা বলে নিলাম দরপত্র ছাড়াই ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান তড়িঘড়ি করে গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক দিয়ে ব্রীজটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন। ভাঙ্গা ব্রীজ থেকে প্রতিদিন ইট, খোয়া ও রড নিজ বাড়ীতে বহন করছেন। ব্রীজের পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা না থাকায় লোকজনসহ রিকশা, ভ্যান যাতায়াতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও দাবী করেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটির নিলাম ডাক হলে পেপার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ এলাকায় মাইকে প্রচার হতো। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান কি করে ব্রীজটির নিলাম ডাক পেলেন, বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
সরেজমিনে দেখা দেখা যায়, প্রায় ১৫ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটির উপরিভাগের পুরোটাই ভাঙার কাজ শেষের দিকে। এরপর নিচের অংশ ভাঙ্গার কাজ চলবে। এখান থেকে প্রাপ্ত ইট ও রড ইউনিয়ন পরিষদে জমা না করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রীজ ভাঙ্গার কাজের শ্রমিকরা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা কাজ করছি। ব্রীজটি ভাঙ্গতে আরও ২/৩ দিন সময় লাগবে।
এদিকে, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান জানান, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ওই স্থানে একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প ধরা হয়েছে। তাই এটি ভাঙ্গা হচ্ছে। ভাঙ্গার অনুমতির বিষয়ে কাগজ দেখতে চাইলে জানান, কাগজ আমার সচিব এর কাছে আছে। পরে দেখানো হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের নিষেধ সত্ত্বেও চেয়ারম্যান ব্রীজ ভাঙ্গার কাজ করছে। নিলাম ডাকের পূর্বে এ কাজ করা মোটেও উচিত হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



