বোয়ালমারীতে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি: ১ লাখ টাকা জরিমানা ও মুচলেকা, বন্ধ হলো কার্যক্রম

আব্দুল মতিন মুন্সী
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক অভিযানের মুখে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে অবশেষে কার্যক্রম বন্ধ করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ভেকুসহ মাটি কাটার সব সরঞ্জাম ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের চরপাড়া এলাকায় নদীর স্বাভাবিক তীরভূমি কেটে মাটি বিক্রি করছিলেন পার্শ্ববর্তী সাতৈর ইউনিয়নের মহিশালা গ্রামের সুভাষ বিশ্বাসের ছেলে বিপ্লব বিশ্বাস। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় এবং ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ১৫ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এ সময় অভিযুক্ত বিপ্লব বিশ্বাসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রশাসন জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদীর পাড় বা সংলগ্ন এলাকায় আর কখনোই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত হবেন না—মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাটি কাটা বন্ধ করে এলাকা থেকে ভেকু সরিয়ে নেন।

এর আগে, চরপাড়া এলাকায় নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির ফলে নদীর তীরের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। এছাড়া ভারী ভেকু ও মাটিভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে বর্ষা মৌসুমে এলাকাটিতে নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রশাসন কার্যক্রম বন্ধ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “মাটি কাটা বন্ধ হওয়ায় আমরা খুশি। তবে ভবিষ্যতে যেন প্রভাবশালীরা আবার এই কাজ শুরু করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর দাবি, মাটি ব্যবসায়ীদের ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা হোক এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। আইন অনুযায়ী, নদীর তীরভূমি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া এখান থেকে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।




