চন্দনাইশে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর নৃশংস হামলা রাজনীতিতে উত্তাপ

মুহাম্মদ জুবাইর
চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের বদুরপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,রাতের নির্জন সময়ে হঠাৎ করে ১০/১৫ জনের একটি দল সিএনজি টেক্সির গতিরোধ করে দুইজনকে টেনে নামায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই হামলা চালায়।ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন রাহাত জানান,গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিন শুক্রবার রাতে পটিয়া থেকে সিএনজি টেক্সিযোগে নিজ বাড়ি চন্দনাইশে ফিরছিলেন।পথে বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।প্রথমে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারীরা দুজনের মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত করে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।আঘাতের তীব্রতায় তারা সড়কের পাশে লুটিয়ে পড়েন।স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং একজনের হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহতদের স্বজনরা জানান,পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাকারীরা আগে থেকেই তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন রাহাত আরও বলেন,আমরা স্বৈরাচারের দোসর জসিমের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলাম। মানববন্ধনের পর থেকেই একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখানো ও চাপ প্রয়োগ শুরু করে।আমরা রাজি না হওয়ায় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল।এরই ধারাবাহিকতায় এই সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।তিনি দাবি করেন,ঘটনার আগে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল।হামলার সঙ্গে ওই পক্ষের অনুসারীরাই জড়িত।দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন আহমদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,জুলাই যোদ্ধারা আমাদের আবেগ।কিন্তু একটি জোটবদ্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বদুরপাড়া এলাকায় একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।তিনি দাবি করেন,ওই স্থানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।তার ভাষায়,এটি আমাদের ইমেজ ক্ষুন্ন করার ব্যর্থ চেষ্টা।তিনি আরও বলেন,চন্দনাইশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত শক্তিরা গুজব ছড়াচ্ছে।চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার সাধারণ মানুষকে তিনি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না বলেও মন্তব্য করেন।ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান জানতে চাইলে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস খান বলেন,বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি।প্রাথমিকভাবে ছায়া তদন্ত চলছে।এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও জানান,মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাই,হামলা ও রাহাজানির ঘটনা বাড়ছে।
রাত হলেই মহাসড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান।সামগ্রিকভাবে দেশে প্রতিনিয়ত খুন,রাহাজানি ও হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় সাধারণ নাগরিকরা চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।রাজনৈতিক মতভেদ,গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এই সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।চন্দনাইশের এই ঘটনায় সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।



