হারিছ চৌধুরীর আত্মত্যাগ ও ‘মি. মুচলেকা’র ভূমিকা: প্রবাসী মইনুল হকের বিস্ফোরক খোলা চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রয়াত বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর আত্মত্যাগ এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকার বিপরীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের (পরোক্ষভাবে) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান প্রবাসী মইনুল হক। সম্প্রতি এক খোলা চিঠিতে তিনি হারিছ চৌধুরীকে ‘নিবেদিতপ্রাণ জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি ‘মি. মুচলেকা’ সম্বোধন করে নেতৃত্বের প্রতি কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন।
মইনুল হক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, হারিছ চৌধুরী শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন। ১/১১-এর পর থেকে আত্মগোপনে থাকা এই নেতাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে হারিছ চৌধুরীর করুণ পরিণতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে পান্থপথে ভাড়া বাসায় থেকেছেন এবং গাওছিয়া মার্কেটে সেলসম্যানের কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন নাম-পরিচয়হীন।”
অন্যদিকে, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কারোর নাম উল্লেখ না করে ‘মি. মুচলেকা’ সম্বোধনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে হাজারো জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী যখন রিক্সা চালনা বা দিনমজুরি করে দিন পার করেছেন, তখন নেতৃত্বের অনেকেই বিলাতে নিরাপদ জীবন যাপন করেছেন।
সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘৭১-এর গেরিলায় যুদ্ধের’ সাথে তুলনা করে মইনুল হক বলেন, “যে কমান্ডোরা ছদ্মবেশে শত্রুপক্ষের ভেতরে ঢুকে ফ্যাসিবাদকে ধরাশায়ী করেছে, তারাই জাতির সূর্যসন্তান। আইমান সাদিকের মতো অসংখ্য গুপ্ত কমান্ডো জীবনবাজি রেখে লড়েছেন বলেই আজ অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন।”
নেতৃত্বের ‘রাজকীয় প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “লজ্জা বলে কোনো জিনিস কি আপনাদের আছে? নির্বাচনে জয় নিশ্চিত বা গদি নিরাপদ দেখে দেশে ফেরার নাম পৌরুষত্ব নয়। যদি ৫ আগস্টের বিপ্লব না হতো, তবে আপনাদের মায়ের জানাজাও হয়তো সম্ভব হতো না।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার ঘরে জন্ম নেওয়া কারো কাছ থেকে এমন অকৃতজ্ঞতা ও নীচাশয় আচরণ অপ্রত্যাশিত।
প্রবাসী এই লেখকের এমন কড়া সমালোচনা রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং প্রবাসে থাকা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে এই চিঠি।



