অপরাধআইন-শৃঙ্খলা

বায়েজিদে জানমাল ঝুঁকিতে চোরচক্রের আতংকে চরম নিরাপত্তাহীনতা এলাকাবাসী

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে জানমাল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।একই স্থান ও একই বাড়িকে টার্গেট করে বারবার অভিনব কায়দায় চুরি সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ পূর্ব পরিকল্পিত ছকের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই উদ্বেগ ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।প্রশাসন নীরব। নিরাপত্তার ভযয়ে সত্য প্রকাশ অপরাধীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে কিংবা কেউই আইনের সহায়তা নিতে রাজি নয়।

ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে বায়েজিদ এলাকায় শুধু একটি বাড়িতেই সম্প্রতি তিনবারসহ এর আগেও চারবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।শুধু তাই নয় আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতেও নিয়মিত চুরি হচ্ছে।চোরচক্র বেসরকারি মালিকানাধীন সম্পদের পাশাপাশি সরকারি কাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ টিএনটির কেবল ও পাইপ পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।এসব ঘটনায় অভিযোগকারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকলেও অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

গত ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে বায়েজিদ আবাসিক এলাকার কাঁচা বাজার রোডের ত্যায়িবা ভবনে অভিনব কায়দায় আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ভবনটিতে তিনটি গেইট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ গেটের তালা ভেঙে চোরচক্র ভেতরে প্রবেশ করে।চুরিকৃত মালামালের মধ্যে ছিল একটি বড় তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বিদেশি প্লাস্টিকের ড্রাম যার দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ ফিট ও প্রস্থ সাড়ে তিন ফিট। ড্রামটিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল।

চুরির সময় পাশের কক্ষের লোকজন শব্দ পেয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মুখে মাস্ক পরা কয়েকজনকে চুরি করতে দেখেন।বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী ও প্রতিবেশীদের ডাকতে ডাকতেই চোরচক্র চোখের পলকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা প্রহরী মোহাম্মদ সেলিম ও মহল্লা কমিটির সভাপতি মো. সফিউর রহমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, নুরুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়। ঘটনাস্থল আশপাশ প্রত্যক্ষদর্শী সকলেই হতাশ অবাক ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছে। মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসীর দাবি শুধু এই একটি ঘটনা নয়,বায়েজিদ এলাকায় প্রতিনিয়তই ভয়ানক চাঞ্চল্যকর ও আতঙ্কজনক চুরির ঘটনা ঘটছে।একই জায়গা থেকে একের পর এক চুরি হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মতে এসব চুরি সংঘটিত হচ্ছে সুকৌশলে পূর্ব পরিকল্পিত ছকের মাধ্যমে।কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ফলে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের ও এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, চোরচক্রের পেছনে রয়েছে ভদ্র ছদ্মবেশী সংঘবদ্ধ একটি চক্র। যারা স্থানীয় ও আশপাশের এলাকায় অপশক্তিতে সক্রিয়। মুখ খুললেই বিপদের আশংকায় অনেকেই সরাসরি অভিযোগ করতে চান না। মান সম্মান ও নিরাপত্তার ভয়েই বেশিরভাগ ভুক্তভোগী নীরব থাকছেন। এতে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে দিনে দিনে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভয়ংকর নিরাপত্তাহীনতায ভুগছে জনসাধারণ।এলাকার নিরাপত্তায় অপরাধীদের আইনের আওতায় দ্রুত আনা দরকার মনে করছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বেসরকারি সম্পদের পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামগ্রী পর্যন্ত চুরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনের নীরবতা গাফিলতি ও কার্যকর তৎপরতার অভাবেই চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার হচ্ছে না এবং কেউ গ্রেপ্তারও হচ্ছে না।এতে ভুক্তভোগীরা উল্টো জীবনঝুঁকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ছেন। দিন দিন প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং জনবান্ধব প্রশাসনের প্রত্যাশা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মো. জাহেদুল কবিরকে অবগত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলের নাম ঠিকানা পাঠাতে বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।তবে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও এবং একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এলাকাবাসীর দাবি এসব সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। চোরচক্রের এসব অপরাধী সুযোগ বুঝে স্বর্ণ মোবাইল নগদ টাকা যানবাহনসহ ঘরের মূল্যবান সবকিছু চুরি করে বিক্রি করছে। সেইসব টাকা দিয়ে অসৎ পথভ্রষ্ট নষ্ট পথে পরিচালিত হচ্ছে তরুণ যুবক সমাজ। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা আইন প্রশাসন হোক সত্যিকার অর্থে জনমুখী ও জনবান্ধব এবং দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক প্রতিটি জীবন সাধারণ জনসাধারণ ও নগরবাসীর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button