মাদারীপুরে কিশোর গ্যাং সংঘর্ষ চার ঘণ্টা ধরে দেশিয় অস্ত্র অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ আহত অন্তত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং-এর দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাদারীপুর পৌরসভার বটতলা ও জেলা পরিষদ এলাকা ঘিরে সংঘর্ষ চলে।এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বসতঘর ও দোকানপাটও ভাঙচুরের শিকার হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় দুইমাস আগে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে ফুটবল খেলার সময় সবুজবাগ ও সদর উপজেলা এলাকার কিশোর গ্যাং-এর মধ্যে মারামারি থেকে।রোববার রাতে এ বিবাদের সূত্র ধরে সবুজবাগ এলাকার নিশাদ বেপারী ও সদর উপজেলা জিলান গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।পরে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী,গোয়েন্দা পুলিশ এবং সদর মডেল থানা পুলিশ প্রায় চার ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান,সংঘর্ষের সময় কিশোরদের হাতে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র থাকার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা কঠিন হয়।সংঘর্ষের সময় কালিবাড়ি এলাকার হাফেজ মহসিনের ছেলে মো. ইমদাদুল ও শহীদ মিয়ার ছেলে সাগরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান,আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে।তিনি জনসাধারণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা বলছেন,এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু আহত বা ভাঙচুরের কারণ নয়, বরং পুরো শহরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি তৈরি করছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন।
এ ঘটনার পর মাদারীপুর পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে সতর্কতা জারি করেছে।



