অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ে স্থগিতের পর তদন্তে গিয়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

মোঃ ইয়াদুল ইসলাম
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অবিনাশ বাড়ৈয়ের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ে স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে গিয়ে ঘুষ দাবি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি গৌরনদী প্রশাসন উপজেলার রামসিদ্ধ গ্রামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ে বন্ধ করে দেয়। ওই ঘটনার পর আজ তদন্তের উদ্দেশ্যে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অবিনাশ বাড়ৈ শহিদ খানের বাড়ি রামসিদ্ধ গ্রামে যান।
সচিব বলেন অভিযোগ রয়েছে, আপনার কন্যা বাড়ি নাই, মেয়ে কোথায়, দেখতে চান বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং চ্যালেঞ্জ করে হুমকি-ধমকি দেন। তখন মেয়ে তাদের পুরনো বাড়ি দাদার ঘরে, পরে মেয়ের বাবা সচিবের সামনে হাজির করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও সচিব বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কন্যার বাবার কাছে নগদ এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। মেয়ের বাবা মোঃ শহিদ খান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সচিব বলেন, মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেন, আমি সচিব দেখে নেব।
পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার বড় ভাইয়ের বৌয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়। অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সচিব ওই ৫০ হাজার টাকা নিয়ে রামসিদ্ধ বাজারে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বাকি টাকার জন্য লোক পাঠান। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের বাবা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সচিব অন্য পথ দিয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অবিনাশ বাড়ৈয়ের সঙ্গে দেখা করতে ইউনিয় পরিষদে গেলে তার রুমে তালা বদ্ধ দেখা যায়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



