ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় পঙ্গু দুই ভাই, অর্থের অভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা: একটি হুইলচেয়ারের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল গ্রামের একটি বাড়িতে এখন শুধুই হাহাকার। ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মো. বাঁশি বিশ্বাসের দুই ছেলের স্বাভাবিক চলাফেরার শক্তি। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই সহোদর মো. জাকির বিশ্বাস (৪০) ও মো. হাসান বিশ্বাস (৩০) এখন পঙ্গুত্ব বরণ করে ধুঁকে ধুঁকে দিন পার করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকির বিশ্বাস চার সন্তানের জনক এবং হাসান বিশ্বাস এক সন্তানের বাবা। একসময় কঠোর পরিশ্রম করে এই দুই ভাই সংসারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আজ তারা শয্যাশায়ী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তি অচল হয়ে পড়ায় অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই ভাই বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় জমানো যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ওষুধের টাকা জোগাড় করাও তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো সামর্থ্য বা একটি হুইলচেয়ারও তাদের নেই। ফলে ঘরের কোণেই বন্দি হয়ে আছে তাদের জীবন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে চিকিৎসা চালানো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই পরিবারটির এখন জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে একটি হুইলচেয়ার এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখতে পারতেন।
সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কাছে এই অসহায় পরিবারটির আকুল আবেদন—তাদের এই দুর্দিনে যেন কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সামান্য সহযোগিতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে দুটি পরিবারের স্বপ্ন।



