প্রশাসনরাজনীতিরাজশাহী

সরকারী ২২টি তাল গাছ কেটে বিক্রয় করেছে জাময়াত নেতা, প্রশাসনের নিকট অভিযোগ

ওবায়দুল ইসলাম রবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারী তালগাছ কেটে নিয়েছে জামায়াত নেতা। স্থানীয় এক ব্যাক্তি প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম মনির বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মইদুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার শোনশুনি পাড়ার বাসিন্দা। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ পত্রে নুরুল ইসলাম মনির রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে তাকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, নুরুল ইসলাম মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোনশুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগে মইদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রায় ০৩মাস আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি ও তার সহোদররা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ২২টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ কেটে বিক্রি করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলাম, অন্য ভাই ও ভাতিজারা একই রাস্তার পাশ থেকে আরও সাতটি তালগাছ কাটেন। এতে তিনি প্রতিবাদ জানালে তার খামারের ভেতরে থাকা একটি বরই গাছও জোরপূর্বক কেটে নেয়া হয়।

মইদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে মনির ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং গত ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৫ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম নিজেকে আহত দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই মনি ও তার ভাইয়েরা তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

অভিযোগ পত্রে মতে, সরকারি তালগাছ লুটের ঘটনায় নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও তার ভাই রফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম ও সালাহউদ্দীন সরাসরি জড়িত। তারা সরকারি রাস্তার ২৯টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ প্রকাশ্যে কেটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। ওই এলাকার জমিজমা আমি চিনি না। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার ভাইয়েরা সেখানে থাকেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তার ভাই শামসুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সরকারি রাস্তার কোনো তালগাছ কাটিনি। নিজেদের জমির আটটি তালগাছ কেটেছি। রাস্তার গাছ কে কেটেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রতন বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। যদি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button