বালির ব্যবসার নামে প্রতারণা দুই লক্ষ চুরাশি হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি অভিযোগ সন্ত্রাসী পাপ্পির বিরুদ্ধে

মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বালির ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মুনছুর আলম পাপ্পির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী রিয়াজ মাহমুদ জানান বালির ব্যবসায় অংশীদারত্বের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বারো লক্ষ টাকা নেওয়া হয় যার মধ্যে নয় লক্ষ পনেরো হাজার পাঁচশত টাকা ফেরত দেওয়া হলেও অবশিষ্ট দুই লক্ষ চুরাশি হাজার পাঁচশত টাকা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত দেওয়া হয়নি বরং টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে তিনি র্যাবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয় মুনছুর আলম পাপ্পি বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম কধুরখীল এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন।অভিযোগকারী জানান দুই হাজার ষোল সালে বালির ব্যবসার লাভজনক সুযোগ দেখিয়ে মুনছুর আলম পাপ্পি তার কাছ থেকে বারো লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।একই সময় আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হন।এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও মিডিয়ার চাপের মুখে নয় লক্ষ পনেরো হাজার পাঁচশত টাকা ফেরত দেওয়া হলেও অবশিষ্ট দুই লক্ষ চুরাশি হাজার পাঁচশত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান মুনছুর আলম পাপ্পি।রিয়াজ মাহমুদের অভিযোগ টাকা চাইলে তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয় মুনছুর আলম পাপ্পির ব্যবসা কার্যক্রম তার ম্যানেজার মোহাম্মদ রোকন ও মামুন পরিচালনা করেন এবং তার নির্দেশেই এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন রাজনৈতিক ক্ষমতার সময় এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের পরও তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে মুনছুর আলম পাপ্পির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।অভিযোগ রয়েছে গত পাঁচ আগস্ট দুই হাজার চব্বিশ সালে চট্টগ্রামে ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক ছাত্র হত্যার ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই তিনি সপরিবারে কানাডায় পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ছাত্র হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান আওয়ামী লীগ টানা ষোল বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মুনছুর আলম পাপ্পির প্রভাব ছিল ব্যাপক।চট্টগ্রাম শহর ও বোয়ালখালী এলাকায় বহু ব্যবসায়ী তার কাছে জিম্মি ছিলেন।চাঁদাবাজি ও ব্যবসার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। ক্ষমতার পালাবদলের পরও তার সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় থাকায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রিয়াজ মাহমুদ তার আবেদনে প্রশাসনের প্রতি আকুতি জানিয়ে বলেন তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তার ন্যায্য পাওনা টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবশিষ্ট টাকা আদায়ের জন্য তিনি র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ছাত্র হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজ্ঞরা বলছেন বালির ব্যবসার নামে অর্থ গ্রহণ করে টাকা ফেরত না দেওয়া এবং হুমকি প্রদান করা স্পষ্টতই প্রতারণা ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকলেও আইনগতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।তারা দ্রুত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এখন দেখার বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং ভুক্তভোগী আদৌ তার ন্যায্য পাওনা ফিরে পান কি না।



