অপরাধআইন-শৃঙ্খলা

সীমান্ত থেকে দেশজুড়ে মাদক স্রোত ফরিদের সাম্রাজ্যে আতঙ্কিত বালুখালী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এক সপ্তাহ না গড়াতেই উখিয়ার বালুখালীর শীর্ষ ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত ফরিদের এক লক্ষ পিস ইয়াবার চালান নিয়ে উধাও হয়ে গেছে তারই লেবার হারুন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার মায়ানমার সীমান্তবর্তী পালংখালীর বটতলী সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার একটি চালান দেশে আনা হয়।এই চালানের মূল হোতা হিসেবে এলাকাজুড়ে পরিচিত বালুখালীর শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ফরিদ প্রকাশ চিয়ক ফরিদের নাম উঠে এসেছে।চালানটি দেশে আসার পর ফরিদের পার্টনার সৈয়দু ওই এক লক্ষ পিস ইয়াবার অর্ধেক নিজের কাছে রেখে বাকি অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় পঞ্চাশ হাজার পিস ইয়াবা লেবার হারুনের হাতে তুলে দেয়।

এরপরই নাটকীয়ভাবে ওই পঞ্চাশ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে হারুন পালিয়ে যায় এবং এখনো পর্যন্ত সে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসী জানায় এই ঘটনায় ফরিদের মাদক সাম্রাজ্যের ভেতরে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।একদিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা হাতছাড়া হওয়া অন্যদিকে লেবারের বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষুব্ধ ফরিদের লোকজন বিভিন্ন স্থানে হারুনকে খুঁজছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।স্থানীয়দের মতে হারুন দীর্ঘদিন ধরেই ফরিদের হয়ে সীমান্তপথে ইয়াবা বহনের কাজ করত এবং মাদক পরিবহনে সে বেশ দক্ষ ছিল।তাই এত বড় একটি চালান তার হাতে তুলে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ ঘটনাটি নতুন নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তাদের দাবি এর আগেও প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বালুখালীর একই শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ফরিদের এক লক্ষ পিস ইয়াবার আরেকটি চালান নিয়ে নুর নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়।সেই নুর এখনো পর্যন্ত পালংখালী এলাকা থেকে পলাতক রয়েছে।পরপর দুইটি বড় চালান হাতছাড়া হওয়ায় ফরিদের মাদক নেটওয়ার্কে যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে তা সহজেই অনুমেয়।তবে এত কিছুর পরও প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না হওয়ায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান তিনি এই ফরিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার রিপোর্ট করেছেন এবং তার মাদক কার্যক্রম সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্য যদি তিনি এই ফরিদের বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখান তাহলে হয়তো তাকেই এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন তিনি।কারণ হিসেবে তিনি বলেন ফরিদের রয়েছে অঢেল অবৈধ টাকা আর এই টাকার জোরেই এলাকায় সে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই ফরিদ বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান শুধু ফরিদ একা নয় অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক বেচাকেনা করে এলাকায় আরও বেশ কয়েকজন কোটিপতি হয়ে গেছেন।তিনি বলেন প্রকাশ্যে যেভাবে মাদক ব্যবসা চলে তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে কিছু নোংরা প্রশাসনের লোকজন জড়িত না থাকলে এত বড় পরিসরে মাদক ব্যবসা কীভাবে সম্ভব।তার দাবি এসব কারবারিরা প্রকাশ্যেই চলাফেরা করে বিলাসী জীবনযাপন করছে অথচ কেউ তাদের ছুঁতেও পারছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এলাকার যুবসমাজ।স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুণদের একটি বড় অংশ ইয়াবার নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।এই মাদক শুধু অত্র এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়।মায়ানমার থেকে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে এনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়।ফরিদের রয়েছে বেশ কিছু গ্যাং যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহের কাজ করে থাকে।একজন স্থানীয় ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে জানান টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারিদের সাথেও ফরিদের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই সে বড় বড় চালান দেশের ভেতরে পাঠিয়ে থাকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বারবার সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর অভিযান না হওয়ায় মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।তাদের মতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় একজন ফার্মেসি দোকানদার বলেন এসব মাদক কারবারিদের নিকট আত্মীয় কিছু কথিত সাংবাদিকের সুসম্পর্ক যার কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে বারবার মাদক কারবারীরা। বিশেষ করে উখিয়ার মাদক কারবারীদেরকে নিয়ে মূলধারার সাংবাদিকরা নিউজ করলে, মাদক কারবারিদের নিকট আত্মীয় পরিচয় দানকারী ভুয়া সাংবাদিকরা তা প্রতিবাদ করছেন প্রতিনিয়ত।

এই বিষয়ে বালুখালীর শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ফরিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর পদক্ষেপই পারে এই মাদক সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button