চট্টগ্রামনির্বাচনরাজনীতি

বিএনপি সরকার এলে চট্টগ্রাম হবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী তারেক রহমান

মুহাম্মদ জুবাইর

বিএনপি সরকারে আসলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেন,চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দরনগরী নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে শুধু চট্টগ্রাম নয়,সারা দেশের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রোববার(২৫ জানুয়ারি)বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

তারেক রহমান বলেন,চট্টগ্রামের মানুষের একটি দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে এই অঞ্চলকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা।তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বিএনপি সরকার গ্রহণ করেছিল।বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা সেই পরিকল্পনা শুরু করেছিলাম।কিন্তু নানা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও সময়ের অভাবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,গত ১৫ বছরে ক্ষমতাসীনরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।আমরা দেখেছি,শুধু কথার ফুলঝুরি দেওয়া হয়েছে।বাস্তবে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কোনো আন্তরিক চেষ্টা হয়নি,বলেন তারেক রহমান।
বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন,এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়,সারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে যাবে।

শিল্প,বাণিজ্য, রপ্তানি, আমদানি সবকিছুই নতুন গতি পাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সমাবেশে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার সেই স্বপ্নের বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ার উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে।

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন,আজ চট্টগ্রাম নগরী হোক বা দেশের অন্য কোনো শহর বৃষ্টি হলেই মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।জলাবদ্ধতা এখন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, ষবিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সমগ্র বাংলাদেশে একটি সমন্বিত খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে।ইনশাআল্লাহ আমরা দুহাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করব।নদী খাল বাঁচাতে হবে।পানি চলাচলের পথ স্বাভাবিক করলেই জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর হবে,বলেন তিনি।

তারেক রহমান চট্টগ্রামের শিল্পায়ন প্রসঙ্গে বলেন,এই চট্টগ্রামেই রয়েছে ইপিজেড যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।এই ইপিজেডগুলো কার আমলে হয়েছিল,আপনারা জানেন।এগুলো বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন,বিএনপি সবসময় কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে।আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি,তাহলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও অনেক ইপিজেড গড়ে তোলা হবে।এর মাধ্যমে তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়বে, বিদেশে শ্রম রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন।তিনি বলেন,আজ সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দিশেহারা।কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করতে হলে সঠিক নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন,বিএনপি সরকার মানেই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করব।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বলেন, এই সমাবেশ প্রমাণ করে দিয়েছে যে চট্টগ্রাম এখনো বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। তারা বলেন, তারেক রহমানের ঘোষণায় নেতাকর্মীরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
উল্লেখ্য, পলোগ্রাউন্ড মাঠের এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান মূলত অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button