বরগুনায় বাবার মামলায় কারাগারে দুই ছেলে, আসামি তালিকায় পুত্রবধূ সহ নাতনী
বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা পৌর শহরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে জখম করা এবং ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার দুই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনির বিরুদ্ধে। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বেলা ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ‘মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন’-এ এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু (৭১) বাদী হয়ে বরগুনা থানায় তার দুই ছেলেসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা বিষয় অনুরূপ তুলে ধরা হল
বাদী : বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু(৭১), পিতা-মৃত রহম আলী হাং, মাতা-মৃত ময়ফুল বিবি, সাং-মুক্তিযোদ্ধার বাস ভবন, ১০ বঙ্গবন্ধু সড়ক, ৭নং ওয়ার্ড, বরগুনা পৌরসভা, থানা ও জেলা বরগুনা।
আসামী : ১। মোঃ সালাহউদ্দিন(৫৫), ২। মোঃ আবুল কালাম আজাদ(৪৫), উভয় পিতা: মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু, ৩। মোসাঃ কুলসুম আক্তার পুর্না(৪০), পিতা-মৃত গিয়াস উদ্দিন, স্বামী-মোঃ সালাহউদ্দিন, ৪। রিমা(৩৫), পিতা-মৃত আঃ ছালাম, স্বামী-মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ৫। সুরাইয়া খানা(২৭), পিতা-মোঃ সালাহউদ্দিন, সর্ব সাং-মুক্তিযোদ্ধার বাস ভবন, ১০ বঙ্গবন্ধু সড়ক, ৭নং ওয়ার্ড, বরগুনা পৌরসভা, থানা ও জেলা বরগুনা।
সাক্ষী : ১। পারভীন হোসাইন(৪৯), পিতা-মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু, ২। মোসাঃ ফাতিমা(৩৫), পিতা-মোঃ কাছেম হাওলাদার, স্বামী- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু, উভয় সাং-মুক্তিযোদ্ধার বাস ভবন, ১০ বঙ্গবন্ধু সড়ক, ৭নং ওয়ার্ড, বরগুনা পৌরসভা, থানা ও জেলা- বরগুনাসহ বহু সাক্ষী আছে।
ঘটনার তারিখ ও সময় : ইং-২১/০১/২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময়।
ঘটনাস্থল : বরগুনা পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ডস্থ আমার নিজ পূর্ব ভিটির টিনসেট বসত ঘরের ২য় তলার রুমের মধ্যে।
জনাব
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল বাছেদ বাচ্চু(৭১), পিতা-মৃত: রহম আলী হাং, মাতা-মৃত ময়ফুল বিবি, সাং-মুক্তিযোদ্ধার বাস ভবন, ১০ বঙ্গবন্ধু সড়ক, ৭নং ওয়ার্ড, বরগুনা পৌরসভা, থানা ও জেলা বরগুনা থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, আসামী মোঃ সালাহউদ্দিন (৫৫) ও মোঃ আবুল কালাম আজাদ(৪৫) দ্বয় আমার ছেলে। ৩নং আসামী ১নং আসামীর স্ত্রী ও ৪নং আসামী ২নং আসামীর স্ত্রী এবং ৫নং আসামী ১নং আসামীর মেয়ে। আমার ০২ ছেলে ও ০২ মেয়ে। বড় মেয়ে পারভীন হোসাইন লন্ডন প্রবাসী এবং ছোট মেয়ে জেসমিন বেগম আমেরিকান প্রবাসী। আমার মোট ১৬ আনা সম্পত্তির মধ্যে ১৪ আনা আমার মরহুম স্ত্রী আলেয়া বেগম এর নামে দলিল মূলে রেজিস্টার করিয়া দেই। আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর উক্ত ১৪ আনা সম্পত্তির ওয়ারিশ আমিসহ আমার ০২ মেয়ে ও ০২ ছেলে। উক্ত সম্পত্তির বিষয় নিয়া আমার ০২ ছেলের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। আমি গত ইং-০৭/১১/২০২৫ তারিখ ২নং সাক্ষী মোসাঃ ফাতিমা(৩৫) কে ২য় বিবাহ করি। ঘটনার দিন ইং- ২১/০১/২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময় আমি বরগুনা বাজার হইতে বাজার করিয়া বসত ঘরে প্রবেশের সময় উপরোক্ত আসামীগন বেআইনী জনতাবদ্ধে জোটবদ্ধ হইয়া আমাকে ধাকা মারিয়া এলোপাথাড়ি ভাবে কিল, ঘুষি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করিয়া বসত ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে বসত ঘরে থাকা আমার ২য় স্ত্রী ২নং সাক্ষীকে এলোপাথারিভাবে কিল, ঘুষি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করিয়া তাহাকে রান্না ঘরে রাখিয়া বাহির থেকে ছিটকানী দিয়া আটকিয়ে রাখে। অতঃপর সকল আসামীগন উক্ত বসত ঘরে থাকা আমার মেয়ে ১নং সাক্ষীর রুমে গিয়া তাহাকে এলোপাথারি ভাবে কিল, ঘুষি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। ২নং আসামী মোঃ আবুল কালাম আজাদ আমার মেয়ে ১নং সাক্ষীর গলা চাপিয়া ধরিয়া হত্যার চেষ্টা করে। তখন আমি আমার মেয়ে ১নং সাক্ষীকে রক্ষা করার চেষ্টা করিলে ১ ও ২নং আসামীদ্বয় আমাকে গলা চাপিয়া ধরিয়া হত্যার চেষ্টা করে। তখন আমি অনেক কষ্টে তাহাদের হাত থেকে রক্ষা পাই। ১নং আসামী মোঃ সালাহউদ্দিন আমার মেয়ে ১নং সাক্ষী আমার স্ত্রী ২নং সাক্ষীর জন্য লন্ডন থেকে নিয়ে আসা পার্সব্যাগে থাকা নগদ ১,০০,০০০/-টাকা, ০৩ ভরি ওজনের ০২টি স্বর্ণের চেইন লকেটসহ যাহার মূল্য অনুমান ৩,০০,০০০/-টাকা, ০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের কানের দুল, যাহার মূল্য অনুমান ১,০০,০০০/-টাকা, ০৬ ভরি ওজনের স্বর্ণের ০৪টি চুড়ি, যাহার মূল্য অনুমান ১২,০০,০০০/-টাকা নিয়া যায়। আমাদের ডাকচিৎকার শুনিয়া আশপাশের লোকজন আসিতে থাকিলে সকল আসামীগন আমাকে ও আমার মেয়ে ১নং সাক্ষীকে খুন জখমের হুমকি প্রদান করে। অতঃপর আমি ও আমার মেয়ে ১নং সাক্ষী বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করি। উক্ত ঘটনার বিষয় আমি আমার নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।
অতএব, জনাবের নিকট আবেদন, আমার অত্র অভিযোগখানা এজাহার হিসাবে গন্য করিয়া আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মর্জি হয়।
বাসেদ বাচ্চুর বড় ছেলে সালাউদ্দিন কে বরগুনা পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ডস্থ আমার নিজ পূর্ব ভিটির টিনসেট বসত ঘরের ২য় তলা বসত ঘড় থেকে ২১ জানুয়ারি রোজ বুধ বার গ্রেফতার করা হয়।এবং ২৫ জানুয়ারি কোর্ট এ হাজিরা দিতে গেলে বাসেদ বাচ্চুর ছোট ছেলে আবুল কালাম আজাদ কে কারাগারে প্রেরণ করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।



