এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাইফুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাইফুল কবিরের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলজিইডিকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরেও বহাল তবিয়তে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিরোজ সরকার নামের এক ভুক্তভোগী সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাজী সাইফুল কবির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, টেন্ডারবাজি এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
সিন্ডিকেট ও বদলি বাণিজ্য
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজী সাইফুল কবির এলজিইডিতে ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত। তার সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া কোনো বদলি, নিয়োগ বা পদোন্নতি সম্ভব হয় না। তিনি অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বালিশ কাণ্ডের মতো ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও অদৃশ্য শক্তির জোরে কাজী সাইফুল কবির সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। বর্তমানে প্রশাসন বিভাগে কর্মরত থাকার সুবাদে তার দুর্নীতির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
স্ত্রী ও পরিবারের নামে সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধানে ও অভিযোগনামা থেকে জানা যায়, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কাজী সাইফুল কবির নিজের এবং তার স্ত্রী ফারজানা নাসরিন হকের নামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হলেও তার জীবনযাপন এবং সম্পদের পরিমাণ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা উল্লেখযোগ্য সম্পদের বিবরণ:
- রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি: রাজধানীর মিরপুর-২ এর ১০৬৯, কাঁঠালতলা এবং মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের ৬/২, ব্লক-বি তে তার নিজস্ব বাসা রয়েছে। এছাড়া মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-বি, এভিনিউ-১ এর ১৪ নম্বর বাড়িতে ১,১৭৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং-বি/২) রয়েছে। একই ভবনে তার শ্যালিকার নামেও সমপরিমাণ আয়তনের আরও একটি ফ্ল্যাট তিনি কিনে দিয়েছেন।
- বিলাসবহুল বাড়ি: ধানমন্ডিতে স্ত্রীর নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাড়ি এবং খুলনায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেও তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে।
- পূর্বাচলে প্লট: পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট রয়েছে।
- জমি ও অন্যান্য: গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার ফুলতলা থানা এলাকায় তিনি শত শত বিঘা জমি ক্রয় করেছেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
- গাড়ি: তার স্ত্রী পেশায় গৃহিণী হলেও তার নামে রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-গ-৩২-৮২৯৭)।
অভিযুক্তের ব্যক্তিগত তথ্যাবলি
অভিযোগপত্রে কাজী সাইফুল কবির এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও কর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে:
- নাম: কাজী সাইফুল কবির (পিতা: কাজী জালাল উদ্দিন, মাতা: হাসিনা বেগম)।
- স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- পায়গ্রাম কসবা, কাজী বাড়ী, ডাকঘর ও থানা- ফুলতলা, জেলা- খুলনা।
- জাতীয় পরিচয়পত্র: ১৫৬৬৭৯০৭১৪।
- টিআইএন (TIN): ১৫১৫৫৩২১৫২২৬ (কর সার্কেল-১৯, কর অঞ্চল-খুলনা)।
- স্ত্রী: ফারজানা নাসরিন হক (পিতা: মোঃ মোজাম্মেল হক, মাতা: ইস্পেনতিয়ারী হক)। পেশা: গৃহিণী। টিআইএন নং-৭৯২৬১৫৪০৭৮২৪ (কর অঞ্চল-২৩, ঢাকা)।
গণমাধ্যম ম্যানেজ ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাইফুল কবিরের অবৈধ সম্পদের খবর যাতে প্রকাশিত না হয়, সেজন্য তিনি টাকার বিনিময়ে বা প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কেউ তার অপকর্মের অনুসন্ধান করতে গেলে তিনি মাস্তান বাহিনী দিয়ে হামলা-মামলার হুমকি দেন এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।
ভুক্তভোগী ফিরোজ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এলজিইডির এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার দুর্নীতির সঠিক তদন্ত হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।



