অন্যান্য

মেঘ পাহাড় ঝর্ণার হাতছানিতে সাংবাদিকদের মিলনমেলা

মুহাম্মদ জুবাইর

অবিস্মরণীয় তিনদিনের বান্দরবান ভ্রমণ সম্পন্ন করল রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য,পাহাড়ি জীবনধারা আর সহকর্মীদের বন্ধনে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (আরজেএ)।বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি তিনদিন দুই রাতের বান্দরবান ভ্রমণ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। কর্মব্যস্ত সাংবাদিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে মেঘ,পাহাড় ও ঝর্ণার সান্নিধ্যে কাটানো এই সময় হয়ে উঠেছে সদস্যদের জন্য এক পরিপূর্ণ রিফ্রেশমেন্ট।

গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসযোগে বান্দরবানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সংগঠনের সদস্যরা।পাহাড়ের দিকে এগোতেই বদলে যেতে থাকে প্রকৃতি শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে সামনে ধরা দেয় সবুজ পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পথের রোমাঞ্চ।দুপুর সাড়ে ১২টায় বান্দরবান শহরের বাস স্টেশনে পৌঁছে হালকা নাস্তা শেষে সবাই রওনা দেন বালাঘাটা বাজারের দিকে।

সেখানে আগে থেকেই সংগঠনের জন্য সংরক্ষিত ছিল তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজের পুরো ভবন।রুম বণ্টনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভ্রমণের আনুষ্ঠানিক পর্ব।অল্প সময়ের মধ্যেই সদস্যদের মধ্যে প্রাণবন্ত আড্ডা, হাসি আর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।

বিশ্রামের সুযোগ না নিয়েই স্থানীয় সাংবাদিক কাজী জুয়েলের ব্যবস্থাপনায় দুটি জিপ গাড়িতে করে সদস্যরা ছুটে যান নিলাচল ও প্রান্তিক লেকের উদ্দেশে।প্রান্তিক লেকের শান্ত,নিরিবিলি পরিবেশ সাংবাদিকদের কিছুক্ষণের জন্য হলেও ব্যস্ত জীবনের চাপ থেকে মুক্ত করে দেয়। আর নিলাচলের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘে ঢাকা পাহাড়, দূরের সবুজ উপত্যকা ও সূর্যাস্তের দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
সন্ধ্যায় রেস্ট হাউজে ফিরে ঘরোয়া পরিবেশে রান্না ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।খাবারের পাশাপাশি চলে প্রাণবন্ত আলোচনা,স্মৃতিচারণ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোসাইন জিসান।

আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন,প্রকৃতির মাঝে এমন সময় কাটানো আমাদের কাজের প্রতি নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে।

ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন সকাল শুরু হয় সুস্বাদু নাস্তায়।এরপর জিপযোগে সদস্যরা রওনা দেন বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণ নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশে।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ২২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নীলগিরিতে পৌঁছে সবাই যেন হারিয়ে যান মেঘ আর পাহাড়ের লুকোচুরিতে।

দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন সাংবাদিকরা।পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে মেঘের ভেলা, সবুজ বনানী আর নীল আকাশ মিলেমিশে তৈরি করে এক স্বপ্নিল পরিবেশ। স্থানীয় রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষে ফেরার পথে বহর থামে শৈলপ্রপাত ঝর্ণায়।

ঝর্ণার শীতল পানি,পাহাড়ি নীরবতা আর প্রাকৃতিক পরিবেশ সদস্যদের মনে এনে দেয় গভীর প্রশান্তি। পাশাপাশি পাহাড়ি আদিবাসীদের ছোট বাজার ঘুরে স্থানীয় পণ্য কেনার সুযোগও পান অনেকে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে বান্দরবান শহরে ফিরে অভিজাত রিসোর্ট মেঘদূতে আয়োজন করা হয় নৈশভোজের।এসময় আরজেএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বান্দরবান সেনা জোনের এনসিও মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোহান।

পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলাম চৌধুরীর আগ্রহে তাঁর অফিস ও বাসভবনে দুই দফা চা আড্ডা ও ফটো সেশনে অংশ নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সাক্ষাৎ ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাত ৯টার মধ্যে সবাই রেস্ট হাউজে ফিরে আসেন। আগের দিনের মতোই ঘরোয়া রান্না, হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে জমে ওঠে শেষ রাতের আড্ডা।

শনিবার সকালে নাস্তা শেষে দুপুর ১২টায় বাসযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন সদস্যরা।পাহাড়ের কোলে কাটানো এই দুই দিন সবার মনে রেখে যায় অসংখ্য স্মৃতি, ছবি আর গল্প।

এ বিষয়ে সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাই। এমন ভ্রমণ আমাদের একত্রিত করে,ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন করে কাজের শক্তি জোগায়।

সভাপতি এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে এই ভ্রমণে অংশ নেন সাংবাদিক নাছির উদ্দিন রকি,এম আর আমিন, সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ রেজা,শেখ মোরশেদ আলম, রাজীব সেন প্রিন্স,আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন,মোস্তফা জাহেদ, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর আলম, মো. এরশাদ, রাকিব উদ্দিন, হাসান সৈকত,পরিতোষ বড়ুয়া রানা, গাজী গোফরান, আনিসুর রহমান ও মো. তৈয়ব চৌধুরী।

ভ্রমণ সফল করতে শুরু থেকে সার্বিক সহযোগিতা করায় বান্দরবানের সাংবাদিক কাজী জুয়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button