
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিন থাকায় এ সংক্রান্ত কোনো বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে সরকার।বেতন কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলেও এর বাস্তবায়ন কিংবা সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে পরবর্তী সরকারের ওপর।
মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি)সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বর্তমান সরকার বেতনকাঠামো ইস্যুতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ক্রয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বৈঠক শেষে তিনি নিজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।বরং সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
তিনি বলেন,নতুন বেতনকাঠামোর প্রতিবেদন আমরা কেবল গ্রহণ করেছি।এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি। বিষয়টি গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন,সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বেতন কমিশন গঠনের দাবি উঠে আসছিল।সেই দাবির প্রেক্ষিতেই কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো অবিকল বাস্তবায়ন করা হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা বর্তমান সরকার দেয়নি।
তার ভাষায়,বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করা হবে, তা নয়।সেগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য আর্থিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন,বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো যদি হুবহু বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ হিসাবে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও এটি একটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ হিসাব।
তিনি আরও বলেন,বাস্তব ক্ষেত্রে কখনোই একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয় না।সাধারণত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়,যাতে সরকারের রাজস্ব ও বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ফাওজুল কবির খান জানান,গঠিত পর্যালোচনা কমিটি আর্থিক সংস্থান,বাজেট সক্ষমতা,প্রশাসনিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করে সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী সরকার চাইলে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে পারবে, আবার চাইলে পরিবর্তনও আনতে পারবে।
তিনি বলেন,বর্তমান সরকারের মেয়াদ খুবই সীমিত।তাই এত বড় একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
এদিকে সরকারের এ ঘোষণার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।কেউ কেউ মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদি সরকারের পক্ষে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যৌক্তিক।আবার অনেক চাকরিজীবী বলছেন,অন্তত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা সময়সূচি দিয়ে গেলে পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ তৈরি হতো।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন,সরকার পরিবর্তনের পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।



