অপরাধআইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

লেডি কিলার মুক্তা চট্টগ্রামের আরফিন নগরের মাদক সম্রাজ্ঞী সিএমপি’র সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত

মুহাম্মদ জুবাইর

মাদক, সন্ত্রাস, অত্যাচার ও প্রশাসনের চোখে ধুলো এক যুগের রমরমা মাদক ব্যবসা

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার আরফিন নগর,ড্রাম গেইট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকা প্রায় এক দশক ধরে মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে,এই এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হলো”মাদকের ডন লেডি কিলার মুক্তা বেগম”।তার স্বামী হযরত আলী,ভাই সোহাগ প্রকাশ ডাকাত সোহাগ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেলিনা ববিতা, মানিক, বাহার উদ্দিন রকি মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে প্রশাসনের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায়।

মুক্তা ও হযরত আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বহুবার অভিযান চালালেও তাদের কার্যক্রম থামানো সম্ভব হয়নি।স্থানীয় সোর্স পারভীনের সহযোগিতা এবং প্রশাসনের কিছু অসৎ ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছেন এমনটাই অভিযোগ করছেন আরফিন নগর বাসী।

প্রায় এক দশক ধরে মুক্তা,হযরত আলী এবং পরিবারের অন্যরা মদ,গাঁজা, ইয়াবা ও হিরোইন পাচারে জড়িত।তারা বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে।

পরিবারের সব সদস্য মুক্তা,হযরত আলী,সোহাগ,সেলিনা, ববিতা,ভাই মানিক এবং স্বামী বাহার উদ্দিন রকি কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকা মাদক ব্যবসার প্রধান হাব হিসেবে ব্যবহার করছে।স্থানীয়রা জানান,এই এলাকা বিকেল ৫টার পর মাদক বাজারে পরিণত হয়।সেখানে স্থানীয় শ্রমিক থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীও সহজেই মাদক নিতে পারছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,মুক্তা বিরুদ্ধে প্রায় ১০টির বেশি মামলা,হযরত আলীর বিরুদ্ধে ৭/৮টি মামলা রয়েছে।কিন্তু প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সখ্যতার কারণে তারা দ্রুত জামিনে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ রয়েছে মুক্তা ও হযরত আলী মাদক থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে অবৈধভাবে সম্পদ ও ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।তাদের খামারে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার গরু।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন জমি দখল করে কলোনী ও খামার তৈরি করেছেন।

আরফিন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে নিয়মিত কবর খুঁড়ে মাদক সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,তারা রাস্তা দখল করে ময়লা আবর্জনা ফেলে চলাচল বিঘ্নিত করছে।
মসজিদের আশপাশে পতিতালয় গড়ে তুলেছে এবং কবরস্থানকে মাদক রাখার নিরাপদ এলাকা বানিয়েছে।

সিএমপি সম্প্রতি প্রকাশিত সন্ত্রাসী তালিকায় ৩৩০ জনের মধ্যে মুক্তার নাম ১৯৮ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।চট্টগ্রামের সচেতন মহল বলছে,এই তালিকা থাকলেও বাস্তবে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না।মুক্তা দিনে দুপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে,মাদক বিক্রি করছে এবং বায়েজিদে ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় যুবসমাজকে ধ্বংস করছে।

মুক্তা ও হযরত আলীর কার্যক্রম প্রকাশ করলে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন।স্থানীয়রা জানিয়েছেন,প্রশাসনের চুপ থাকা,সোর্স পারভীনের সহযোগিতা এবং ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সখ্যতার কারণে মুক্তা ও হযরত আলীর মাদক সম্রাজ্য থেমে যাচ্ছে না।সাংবাদিকরা গালিগালাজ,হুমকি ও শারীরিক হামলার সম্মুখীন হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় জানিয়েছেন, আরফিন নগর পুরো এলাকা মুক্তা,হযরত আলী,সোহাগ ও মানিকার পরিবারের অত্যাচারে দিশেহারা।তারা সন্ত্রাস, মাদক,প্রশাসনের দূর্নীতি এবং অপরাধীদের সহযোগিতায় সাধারণ মানুষদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে।এলাকার যুবকরা ভয় ও হুমকির কারণে স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদভাবে যেতে পারছে না। এই মুখটার সাথে আছে কিছু কথিত নেতাদের ভালো সখ্যতা।

স্থানীয়রা মনে করছেন,মুক্তা ও তার পরিবারের অত্যাচার রোধ করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।কেবল সন্ত্রাসী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করলেই কাজ হবে না;কার্যকরী আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, যেসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে,তা যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।তবে স্থানীয় সোর্স ও ঘোষ বাণিজ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কারণে তারা দ্রুত পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button