ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি আলাউদ্দিন গং এর দখলে ডি ইপিজেড সি এন্ড এফ খাত

অপরাধ বিচিত্রা : ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন ও তার সহযোগী মাসুদ, সোহাগ গংদের দাপটে ইপিজেড এলাকার সি অ্যান্ড এফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) খাত কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ক্ষমতার বলে ভয়ভীতি, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র এই খাত নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আলাউদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও এখনো তাদের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলেই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, শারীরিক হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সি অ্যান্ড এফ ব্যবসায়ী বলেন, দেশের পটপরিবর্তন ও আওয়ামী শক্তি পরাজিত হলেও আমরা এখনো স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারছি না। পূর্বের সেই একটি চক্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। কর্মচারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে কয়েকজন সি এন্ড এফ কর্মচারীর অভিযোগ, কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও আগে আলাউদ্দিন গং চক্রের অনুমতি নিতে হয়। না মানলেই ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ইপিজেড এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ইপিজেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এভাবে একটি চক্রের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ী নেতারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ইপিজেড এলাকায় স্বাভাবিক ব্যবসা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে আলাউদ্দিন গংয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



