অপরাধআইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

চট্টগ্রাম কারাগারে থেকেও মামলায় জড়ানো পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ

মুহাম্মদ জুবাইর

থানা ভাঙচুর মামলায় ভুল আবেদন গ্রেপ্তার দেখানো বাতিল আদালতে

উক্ত ঘটনার সময় আসামি কারাগারে থাকলেও থানা ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই আবেদন বাতিল করেছেন।একই সঙ্গে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামির কারাগারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ আদেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে থানা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ঘিরে পুলিশি তদন্তের গাফিলতির চিত্র সামনে এসেছে।আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, যে সময় পাহাড়তলী থানায় হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি কারাগারে ছিলেন। তবুও তাকে ওই মামলায় জড়িত দেখিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়, যা আদালতের কাছে অসঙ্গত ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

গতকাল বুধবার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদ সাত্তার এই আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়,অভিযুক্ত নুর হোসেন ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে নগরের আকবর শাহ থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। অথচ পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামান খান তাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

মামলাটির শুনানি ধার্য হলে গত সোমবার আসামির আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে সময় নুর হোসেন কারাগারে ছিলেন।বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকেও আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানান, নুর হোসেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীতাকুণ্ড থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। ওই সময়েই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তিনি ২২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান। এরপর ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুনরায় কারাগারে যান।

কারা কর্তৃপক্ষের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতের কাছে স্পষ্ট হয় যে,যে ঘটনার মামলায় নুর হোসেনকে জড়িত দেখানো হয়েছে,সেই সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। ফলে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেন এবং আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আরিফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

আসামির আইনজীবী নয়ন মণি দাস আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনার সময় কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।তিনি বলেন,আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং এই আদেশ ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল বা দায়িত্বহীন আবেদন রোধে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আরিফুজ্জামান খান বলেন,তাড়াহুড়ো করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তিনি জানান, আদালত যে কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি যথাযথ জবাব দেবেন।

আইন সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন,এ ঘটনা তদন্ত ও গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।একই সঙ্গে আদালতের এই আদেশ পুলিশি কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button