বরিশাল প্রতিনিধি: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক জারি করা নির্বাচনী আচরণবিধি ও Representation of the People Order (RPO), 1972 অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাদের প্রতিনিধি কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ, মাঠ বা শিক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কোনো স্থানে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টার-ব্যানার টাঙানো কিংবা কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই সুস্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনা-০১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষে বরগুনার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরগুনা সরকারি কলেজে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফেসবুক পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট ছবিতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলমান থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হাতে নির্বাচনী লিফলেট তুলে দেওয়া হচ্ছে।

ছবিতে স্পষ্টভাবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ঘটনাটি শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময়েই সংঘটিত হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে “নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের বাইরে সংরক্ষিত এলাকা (Restricted Area)” হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি RPO, 1972–এর বিধান অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল কিংবা ফৌজদারি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। ফলে আলোচিত ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও প্রচলিত নির্বাচনী আইনের সরাসরি ও গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছেন আইন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা মন্তব্য করেছেন, শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের শামিল।
অনেকেই বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী আইনের প্রকাশ্য অবমাননা’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রাপ্ত ছবি ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।



