ঘরের খরচ কি কেবলই দায়িত্ব, নাকি ইবাদত?

🔽সময় বা সুযোগের অভাবে পুরো লেখাটি পড়া সম্ভব না হলে, নিচে দেওয়া অডিওতে শুনে নিতে পারেন⏬
SanjidAmin ||
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দিনশেষে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেন। বাজার করা, সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়া বা পরিবারের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পকেটের টাকা যখন শেষ হয়ে যায়, তখন অনেকের মনেই একটা সূক্ষ্ম আফসোস জাগে—”ইশ! এই টাকাটা যদি কোনো মসজিদে বা গরিবকে দান করতে পারতাম, তবে কতই না সওয়াব হতো!” আমরা মনে করি, ঘরের মানুষের পেছনে খরচ করাটা তো স্রেফ একটা সামাজিক দায়িত্ব বা বোঝা, এতে আবার সওয়াব কী?
ঠিক এই জায়গাটিতেই ইসলাম আমাদের চিন্তার জগৎ বদলে দেয়। সহীহ বুখারীর ৫৩৫৪ নম্বর হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এক দারুণ সুসংবাদ দিয়েছেন:
“তুমি যা কিছুই ব্যয় কর, সেটাই তোমার জন্যে সদকা, এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে নলাটি তুমি তুলে দাও সেটাও।”

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই ইবাদত
এই হাদিসের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এটি আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিটি খরচকে ইবাদতে রূপান্তর করার সুযোগ দেয়। আমরা যখন বাইরের কাউকে দান করি, তখন মনে সওয়াবের আশা থাকে। কিন্তু পরিবারের পেছনে খরচ করার সময় আমরা সেটাকে কেবল ‘খরচ’ মনে করি। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শেখাচ্ছেন, আপনি যখন হালাল উপায়ে উপার্জন করে আপনার স্ত্রী-সন্তান বা মা-বাবার প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, তখন দয়াময় আল্লাহ সেটাকে আপনার আমলনামায় ‘সদকা’ বা দান হিসেবে লিখে রাখছেন। এমনকি স্ত্রীর মুখে ভালোবাসার সাথে এক লোকমা খাবার তুলে দেওয়ার মতো ক্ষুদ্র বিষয়টিকেও ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে।
দায়িত্ব যখন মহব্বতের মাধ্যম
ইসলামী জীবনদর্শনে পরিবারের হক আদায় করাকে নফল ইবাদতের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনি যখন এই নিয়ত করবেন যে—”আমি আমার পরিবারকে সুখে রাখছি কারণ আল্লাহ আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন”, তখন আপনার প্রতিটি পাই-পয়সা ব্যয়ের বিনিময়ে আপনি সওয়াব পাবেন। এটি কেবল দায়িত্ব নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম। এখানে ‘সদকা’ শব্দটি ব্যবহার করে মূলত আমাদের উৎসাহিত করা হয়েছে যেন আমরা পরিবারের পেছনে ব্যয় করতে গিয়ে মনে কষ্ট না পাই, বরং আনন্দের সাথে তা করি।
উপসংহার
দিনশেষে আপনি যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরেন এবং পরিবারের হাসিমুখ দেখেন, মনে রাখবেন—আপনার এই শ্রম বৃথা যাচ্ছে না। আপনার প্রতিটি খরচই আল্লাহর কাছে একেকটি সদকা। তাই আজ থেকে পরিবারের জন্য যা-ই কিনুন বা খরচ করুন না কেন, মনে মনে কেবল এই নিয়তটুকু করে নিন যে—”হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টির জন্যই আমি আমার আমানত বা পরিবারের হক আদায় করছি।” দেখবেন, আপনার কষ্টটা তখন প্রশান্তিতে বদলে যাবে। ইনশাআল্লাহ।



