এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাত্মক ধর্মঘট

মুহাম্মদ জুবাইর
ডিপি ওয়ার্ল্ড ইস্যুতে শ্রমিক দলের আন্দোলন,কঠোর অবস্থানে বন্দর প্রশাসন
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে সর্বাত্মক ধর্মঘট চলছে।পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য)সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।তাদের কর্মসূচির ফলে এনসিটির অপারেশনাল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।শ্রমিক নেতারা সকল অপারেশনাল কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন্দর প্রশাসন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দরের সব বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন এবং কারা দেননি,সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে।যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)।এটির অপারেশনাল দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরে সরকারের কোনো আইনগত বাধা নেই এমন রায় গত বৃহস্পতিবার দিয়েছেন হাইকোর্ট।তবে আদালতের এই রায়ের পরও এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার বিরোধিতা করে গত তিন মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শনিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।একই দাবিতে আগামী রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবারও সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক দলের নেতারা।পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এই কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে স্কপ (সংগঠনের নাম উল্লেখযোগ্য)। স্কপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে।শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক(প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন,নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে উচ্চ আদালতের একটি স্পষ্ট রায় রয়েছে।এই রায় অমান্য করে কেউ যদি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে,তাহলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন,অফিস চলাকালীন সময়ে মিছিল, মহড়া কিংবা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে প্রশাসনের এই হুঁশিয়ারির পরও এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারী নেতা হুমায়ুন কবির বলেন,আমাদের কর্মসূচি চলছে,চলবে।দেশ রক্ষার স্বার্থেই এমন কর্মসূচি দিয়েছি আমরা।এনসিটি কোনোভাবেই বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন,শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে শ্রমিক নেতারা বলছেন, দেশের স্বার্থে তারা কোনো আপস করবেন না।



