
মুহাম্মদ জুবাইর
ফটিকছড়িবাসী বিজয়ের জন্য প্রস্তুত:অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-২ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার উদ্যোগে এক বিশাল ও প্রাণবন্ত গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার বিকেলে নাজিরহাট পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এ গণমিছিল পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
গণমিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো নাজিরহাট এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখরিত এই গণমিছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
গণমিছিল চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-২ আসনের জামায়াত মনোনীত ও জোটসমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন,“দাঁড়িপাল্লা কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ফটিকছড়ির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত, তারা এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ এই এলাকার মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করেই ছাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করছে। দুর্নীতি, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যের প্রতিফলনই আজকের এই গণমিছিল।
অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আরও বলেন,জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি নয়, জনগণ এখন সৎ ও আদর্শ নেতৃত্ব চায়। আমরা সেই রাজনীতিরই প্রতিনিধিত্ব করছি।
তিনি উল্লেখ করেন, ফটিকছড়ি উপজেলার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। নির্বাচিত হলে এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণমিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। দাঁড়িপাল্লা জিন্দাবাদ,ন্যায়ের পক্ষে জনতা,শোষণমুক্ত রাষ্ট্র চাই এ ধরনের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান।
নাজিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, এই গণমিছিল প্রমাণ করে যে ফটিকছড়ির মানুষ এবার সত্যিকার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তারা জানান, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,আমরা শান্তি ও নিরাপত্তা চাই। আমাদের ব্যবসা যেন চাঁদাবাজি ও অনিয়মের শিকার না হয়। এই গণমিছিলে এসে মনে হচ্ছে মানুষ এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
আয়োজকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গণমিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক।
তারা আরও জানান,আগামী দিনগুলোতে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ, পথসভা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
গণমিছিল শেষে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন,এই জনসমর্থন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক।ইনশাআল্লাহ ফটিকছড়ির মানুষ সেই ইতিহাস গড়বে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে বিবেচিত। এ আসনে নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নাজিরহাট পৌরসভার এই বিশাল গণমিছিল নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।



