চট্টগ্রামনির্বাচনরাজনীতি

চট্টগ্রাম-৮ আসনশীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক মাঠে নামছেন জামায়াতের প্রার্থী:আবু নাছের

মুহাম্মদ জুবাইর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও আংশিক)আসনে শেষ মুহূর্তে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমঝোতা ও টানাপড়েনের পর অবশেষে এই আসনে প্রকাশ্য নির্বাচনী মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ফলে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক বোঝাপড়া এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৮ আসন নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও জনমতের চাপ উপেক্ষা করতে না পেরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এই সিদ্ধান্তের ফলে আসনটি এখন জোট রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও উত্তপ্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সফরে এসে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের জটিল পরিস্থিতি প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেন।ওইদিন বোয়ালখালীতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দিয়ে নাহিদ ইসলাম নগরের একটি হোটেলে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে জামায়াত নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানান,এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল ইসলাম আরিফকে দিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অত্যন্ত কঠিন। তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা,ডা.আবু নাছেরের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা,ভোটব্যাংক এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরেন।জামায়াত নেতাদের ভাষায়, এই আসনে স্থানীয় জনমত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নির্বাচনীভাবে আত্মঘাতী হবে।

একই দিন আলাদাভাবে বোয়ালখালী সফরে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।সেখানে গিয়ে তিনি এক অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার প্রকাশ্য সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন দাবি করেন।

তিনি বলেন,জোটের ভোট ২০ শতাংশ, কিন্তু স্থানীয় ভোট ৮০ শতাংশ।স্থানীয় মানুষ স্থানীয় প্রার্থীকে চায়।হয় ডা. নাছেরকে ছাড় দিন,না হয় এই আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন দিন।

এই বক্তব্যে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ওইদিনই কুমিল্লায় এনসিপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে আরেক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।সেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করে সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং স্থানীয়ভাবে সংকট সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়।

একইসঙ্গে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল ইসলাম আরিফের সঙ্গেও জামায়াত নেতাদের আলোচনা অব্যাহত থাকে। তবে বৈঠকের পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জামায়াতের ভেতরে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে থাকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে,কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা চললেও বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও অংশের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকার পক্ষে অবস্থান নেন।তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তোলা,ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ডা. আবু নাছেরের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা সবকিছু মিলিয়ে এই আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা গণসংযোগ,সাংগঠনিক সভা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এই নাটকীয়তা জোট রাজনীতির ভেতরের সংকট ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।স্থানীয় জনপ্রিয়তা বনাম কেন্দ্রীয় সমঝোতা এই দ্বন্দ্বের ফলাফল কী হবে,তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও ভোটারদের মনোভাবের ওপর।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে।শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা চললেও বাস্তবে জামায়াতের মাঠে নামা নির্বাচনী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button