
মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রামে শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোররা ক্রমেই সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় সুরপঞ্চম সঙ্গীত নিকেতনের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে সুস্থ মানসিকতা ও সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী সাগরিকা কলেজ রোডস্থ পপুলার কমিউনিটি সেন্টারে সুরপঞ্চম সঙ্গীত নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ এ বক্তারা এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সুরপঞ্চম সঙ্গীত নিকেতনের অধ্যক্ষ শিমুল দাশের সভাপতিত্বে এবং সহ-অধ্যক্ষ রিয়া দাশের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গীত প্রযোজক পাপিয়া আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দ্বীপ ভট্টাচার্য, অর্পিতা চৌধুরী, সঞ্চারী বড়ুয়া ও দীপা মজুমদার।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে পাপিয়া আহমেদ বলেন, “বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সঙ্গীত ও সংস্কৃতিচর্চা থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চা মানুষের মন ও মননশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত অনুশীলন ও শৃঙ্খলাই একজন শিল্পীকে প্রকৃত সফলতার পথে নিয়ে যায়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শিমুল দাশ বলেন, “সুরপঞ্চম সঙ্গীত নিকেতন শুধু একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবার। এখানে সঙ্গীতের পাশাপাশি মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেওয়া হয়।” তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্জনই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে প্রতিষ্ঠান সবসময় পাশে থাকবে।
সহ-অধ্যক্ষ রিয়া দাশ বলেন, সঙ্গীত মানুষের ভেতরের ইতিবাচক চিন্তা ও সহনশীলতা জাগ্রত করে। সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। তিনি অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সুরপঞ্চম সঙ্গীত নিকেতনের শিক্ষার্থীরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, আবৃত্তি, গিটার ও তবলা পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেন। মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার পর নিয়মিত অনুশীলন ও কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ জুয়েল দাশ, রুবেল চৌধুরী ও রাজীব পাটোয়ারী। শেষে আয়োজকরা অনুষ্ঠানের সফলতায় সহযোগিতাকারী অতিথি, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।



