না ফেরার দেশে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ভলিবল কোচ মোস্তফা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক পরিচালক এবং দেশের প্রথিতযশা ভলিবল কোচ মোস্তফা কামাল আর নেই (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) ভোর ৬:৩০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবন
১৯৪২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে জন্মগ্রহণ করা মোস্তফা কামাল ছিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বসুরহাট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করে তিনি জগন্নাথ কলেজে অধ্যয়নকালীন ভলিবল, ফুটবল ও অ্যাথলেটিকসে অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
তার ক্রীড়াজীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
- খেলোয়াড়ি জীবন: ১৯৫৮ সালে আন্তঃজেলা ফুটবলে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মোহামেডান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেন এবং তার নেতৃত্বেই মোহামেডান ভলিবল দল টানা তিনবার শিরোপা জয় করে। এছাড়া তিনি টানা ৮ বছর পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন।
- কোচিং ক্যারিয়ার: তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে সাতবার বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- স্বীকৃতি: ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সেরা ভলিবল খেলোয়াড়, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের সেরা প্রশিক্ষক এবং ২০০৮ সালে সোনালী অতীত ক্লাব থেকে আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হন তিনি।
পারিবার ও জানাজা
মোস্তফা কামাল ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম খালেদ মোমিন স্যারের ছোট ভাই এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহর চাচা।
আজ রবিবার বাদ জোহর শান্তিনগরস্থ ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের সামনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
শোক প্রকাশ
তার মৃত্যুতে কোম্পানীগঞ্জবাসী এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ভলিবলকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



