অন্যান্যচট্টগ্রাম

নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে কুইজ ও আলোচনা সভা

মুহাম্মদ জুবাইর

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি,সুস্থ সবল জীবন গড়ি’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়াও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও ব্যবস্থাপকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফারজানা রহমান মীম, সহকারী কমিশনার (এনজিও সেল) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির মান কঠোরভাবে তদারকির দাবি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষি বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কৃষকদের জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের এসব পণ্য সরবরাহে সচেতন করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ভেজাল ও দূষণমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ না হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। কেবল আইন প্রয়োগ করেই নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিকতার মাধ্যমেই ভেজালের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অধিক মুনাফার আশায় খাদ্যে ভেজাল একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয় পক্ষকে সচেতন হতে হবে। জাতিগতভাবে ভেজালের সংস্কৃতিকে ‘না’ বলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি হলে তবেই একটি সুস্থ ও সবল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মাঝে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট, পোস্টার ও বুকলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের একটি করে পরিবেশবান্ধব সুন্দরী বৃক্ষ বিতরণ করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কারের পাশাপাশি সুন্দরী ও নিম গাছের চারা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button