অপরাধঅব্যাবস্থাপনাঅভিযানআইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

তিন অভিযোগে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম বন্দর, নীলফামারী সদর হাসপাতাল ও কুয়াকাটা সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

দুর্নীতি দমন কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক তিনটি অভিযোগের বিষয়ে একযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর, নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে,প্রতিটি অভিযানে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

প্রথম অভিযানে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে অসাধু আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু আমদানিকারক অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম ১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে।
একই সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের স্মারক অনুযায়ী অনাপত্তি সনদ ছাড়া লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না,তা যাচাই করা হয়।এ বিষয়ে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার এবং ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া পণ্য পরিবহনে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়াবলি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সংগৃহীত তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

দ্বিতীয় অভিযানে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম নীলফামারী সদর হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় হাসপাতালের মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হওয়ায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট টিম মনে করছে।সংগৃহীত রেকর্ডপত্র আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তৃতীয় অভিযানে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ তদন্ত করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পটুয়াখালীর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও পরিদর্শনে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়নের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

এর মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। অভিযানকালে একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে সড়কের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, মেকাডাম স্তর ও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব পরিমাপ করা হয়।

একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদক সূত্র জানায়, তিনটি অভিযানে সংগৃহীত তথ্য প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button