
মুহাম্মদ জুবাইর
জামায়াত যুবসমাজকে কাজের সুযোগ দিতে চায়, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে,চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।তিনি বলেন,আমাদের হাতে কাজ দাও,আমরা কাজ করতে চাই,দেশ গড়তে চাই।এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড আর এক হাতে মায়ের মর্যাদা লাঞ্ছিত করা কখনো চলবে না।রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড,আমার মায়ের মর্যাদা আগে।
শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দেশের যুবসমাজের জন্য কাজের সুযোগ ও নারীর মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব।জনসভায় তিনি বলেন,যারা দেশের যুবসমাজের আন্দোলনকে ন্যায্য দাবির অংশ হিসেবে দেখেছে,তাদের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।যারা ন্যায্যতা দিতে অস্বীকার করেছে,তাদের দেশের মাটিতে আর স্থান নেই।আমাদের মায়ের প্রতি হাত দেওয়ার সাহস দেখালে আগুন জ্বলে উঠবে,যা কেউ নেভাতে পারবে না।
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন,যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করা হবে না।বরং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের দেশের নির্মাণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন,বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে যুবকদের ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই। এই যুবসমাজ দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে,তিনি যুবসমাজকে রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।তার মতে, শুধু আর্থিক সহায়তা বা ভাতা দিয়ে দেশের যুবসমাজকে ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়; বরং দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদেরকে দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা যাবে।
নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, মা-বোনদের ঘরে,পথে ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।মায়ের মর্যাদা দিতে না পারলে জান দিতে প্রস্তুত আছি,যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,দেশের যুবসমাজের লক্ষ্য হলো ন্যায্যতা ও সামাজিক উন্নয়ন। তারা কারও কাছে ভিক্ষা চায়নি, বেকার ভাতা চায়নি;তারা শুধু চেয়েছে কাজ করার সুযোগ, দেশ গড়ার সুযোগ। এই বক্তব্যে তিনি জোর দিয়েছেন যে যুব সমাজের মর্যাদা রক্ষা ও নারীর সুরক্ষা একটি অখণ্ড সামাজিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শফিকুর রহমান বলেন,জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের বিজয় লক্ষ্য করে কাজ করছে না। বরং ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।১৮ কোটি মানুষের মুক্তি অর্জন ছাড়া তাদের কার্যক্রমের সফলতা অসম্পূর্ণ।
তিনি বলেন,জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা বিরোধিতার কারণে কোনো দলকে অপমান করে না। ১১টি দলের ১১টি পথিক আছে। আমরা কাউকে হজম করি না। প্রতিটি দলকে নিজেদের পথে নির্বাচন করার সুযোগ দিচ্ছি।
শফিকুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটকে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার ভোট হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ” ভোট বিজয়ী হবে, ইনশা আল্লাহ।যারা জুলাইকে মানে না, তাদের জন্য ২৬-এর নির্বাচন অর্থহীন।
এতে বোঝা যায় যে জামায়াতের মূল লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং দেশের ন্যায্যতা, সামাজিক উন্নয়ন ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও অন্যায় আমাদের জাতিকে এগোতে দেবে না।ভবিষ্যতে এই বন্দর জনগণের হবে। চট্টগ্রামের বন্দরকে উদাহরণ হিসেবে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মিলিতভাবে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
জামায়াতের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো চট্টগ্রাম বন্দরের স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা,যাতে এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো,
যুবসমাজকে সক্রিয়ভাবে ক্ষমতায়ন করা।
নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ রক্ষা।
দেশকে দুর্নীতি ও স্বার্থপরতার হাত থেকে রক্ষা করে সমৃদ্ধি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।
রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার খেলা নয়,বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা।
শফিকুর রহমানের ভাষণে প্রতীয়মান হয় যে জামায়াত সমাজের মূল স্তম্ভ হিসেবে যুবসমাজকে অবস্থান দিতে চায়,যাতে তারা দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
চট্টগ্রাম জনসভায় শফিকুর রহমানের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে জামায়াত যুবসমাজ, নারীর মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং দেশের
শফিকুর রহমানের কথায় উঠে এসেছে, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজের সঠিক প্রশিক্ষণ, সুযোগ এবং নেতৃত্বে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে,নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে,যা সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।



