দৈনিক ৬০ টাকা হজিরা মুজুরিতে চাকুরি করে কোটি কোটি টাকার মালিক-ফ্লাট বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার: মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার হাজী আব্দুস সোবহান দৈনিক ৬০ টাকা হজিরা মুজুরিতে চাকুরি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকায় তিনি টাকার বিনিময় সরকারি একাধিক খাস জমির ব্যক্তি মালিকানা করে দিয়ে সুবিধাভোগীদের থেকে হাতিয়ে নিতেন মোটা অংকের টাকা। রেজিস্টার অফিসে যে কোন কাজ করতে গেলেই উমেদার আব্দুস সোবহানের শরণাপন্ন হতেই হবে। তিনি সময়ই ব্যস্ত থাকেন, তার সময়ের প্রতিটি মূল্য অনেক বেশি, অন্য সাবরেজিস্ট্রারের থেকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উমেদার আব্দুস সোবান।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাইতুল আমান হাউজিং-এ পরিবার সহ বসবাসের জন্য ৩২০০ স্কয়ার ফিটের ফ্লাট এবং ঢাকা হাউজিং-এ দুটি বাড়ি (আদাবর বাজারের সামনে ১ নম্বর রোডের আগে)। শ্যামলী হাউজিং-এ দুইটি বাড়ি (দ্বিতীয় প্রকল্পের ভিতরে এবং তৃতীয় প্রকল্পের ভিতরে) ২৪/০৩ ঢাকা হাউসিং বাড়ি শরীয়তপুরে। এক সময় আব্দুস সোবাহান রেজি: অফিসের ড্রাইভার ছিলেন, টাকার গরমে সে এখন সাধারণ মানুষসহ অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের তোয়াক্কা করে না। তার ক্ষমতার দাপট এতো যে, মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সকল স্টাফ ও দলিল লেখকদের সাথে অপমানজনক খারাপ আচরণ করেন।
উমেদার আব্দুস সোবহানের ঢাকাতেই রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট প্লট-বাড়ি, কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলেন? যিনি এখন পর্যন্ত একজন ফুল সাব রেজিস্টারও হতে পারেননি-এমন প্রশ্ন অনেকের। রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পুরাতন দোকানী এবং কর্মরত পুরাতন স্টাফদের কাছ থেকে জানা যায়, এই রেজিস্ট্রি অফিসের ইট পাথরও আব্দুস সোবাহানকে চিনেন!
ঢাকা রিং রোডে রয়েছে ফ্ল্যাট, আদাবর এলাকায় রয়েছে একটি বহুতল ভবন, বাইতুল আমান হাউজিং-এ রয়েছে একটি বাড়ি। এছাড়াও আদাবরে কাটাসুর এলাকায় রয়েছে আরো একটি বাড়ি, অন্য এক সূত্রে থেকে জানা যায়, বসিলা সিটিতেও রয়েছে একটি জমি, এবং রামচন্দ্র পুর মৌজায় কিনেছে বেশ কিছু জমি। গোপন সূত্রে জানা যায়,
আব্দুস সোবহান, তাঁর প্রয়াত স্ত্রী হালিমা ও মায়ের আয়কর নথিসহ দলিলে দেখা যায়, রাজধানীর আদাবরে সড়কের পাশে ২৪/৩ হোল্ডিং নম্বরের একটি ৭ তলা বাড়ির মালিক আব্দুস সোবহান। তাঁর আয়কর নথিতে স্থাবর সম্পদ হিসেবে আদাবরের ১০ নম্বর সড়কে ৭১২/১৯/৬৬ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৩ দশমিক ৫৯ কাঠা জমিতে ২৪টি ছাপরাঘর, ১০৩৪/৩/বি মোহাম্মদপুর সড়কের ১৭/বি, বি/এফ-এতে ৫ শতাংশ জমিতে ১৮টি ছাপরাঘর (আরএস নং ২৪০, এসএ খতিয়ান নং-৫৯), বাড্ডার সাঁতারকুলে ৫০ শতাংশ অংশীদারত্বে একটি ২ কাঠার প্লট (সিএস খতিয়ান নং ২৯) এবং ৬ শতাংশ জমির (এসএ নং ২৯৩) উল্লেখ রয়েছে।
নথি থেকে জানা যায়, আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির ১১ নং সড়কের ৬১৭ নং হোল্ডিংয়ের ভবনটিতে সোবহানের তিনটি ফ্ল্যাট, বছিলা সিটিতে ১৫ কাঠার একটি প্লট, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় ২০ কাঠার ও কাঁটাসুর মৌজায় ৯৬৫৪ নং দলিলমূলে ১৮ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। আদাবরের ৩ নম্বর সড়কের ৩২২ হোল্ডিংয়ের সিলিকন নামের ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটের মালিক আব্দুস সোবহান। ওই ফ্ল্যাটে থাকেন তাঁর এক আত্মীয়, যিনি রাজধানীর অন্য একটি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত।



