দুর্নীতি

নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশারের হাতে জিম্মি ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহঃ ঘটনার সারসংক্ষেপ জনসেবার পরিবর্তে ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী করা হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার দপ্তরকে একটি ‘কমিশন হাটে’ পরিণত করেছেন, যেখানে সরকারি নীতিমালার চেয়ে ঘুষ, লিয়াজু এবং দলীয় প্রভাবই প্রধান চালিকাশক্তি।

অভিযুক্তের তথ্য:
নাম: খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন
পদবী: নির্বাহী প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ।
পরিচিতি: দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ে ‘ক্ষমতালোভী কমিশন ব্যবসায়ী’ হিসেবে তার পরিচিতি এখন প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করা হয়েছে।
আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ:
১. টেন্ডার ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়ম:
সমন্বয় বাণিজ্য: নামমাত্র টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং লোকদেখানো দরপত্র বিশ্লেষণের আড়ালে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের সঙ্গে ‘সমন্বয় বাণিজ্য’ চলছে।
একচেটিয়া কাজ: দলের নাম ব্যবহার করে এবং ঘুষের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সুবিধাবাদি ঠিকাদারদের একচেটিয়া কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বঞ্চনা: যোগ্য ও নিরপেক্ষ ঠিকাদাররা কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২. আর্থিক দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণ (সিএসসি):
অগ্রিম ঘুষ: প্রকল্প অনুমোদনের আগেই অগ্রিম ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
সিএসসি (ঈঝঈ): দপ্তরটিতে প্রকৌশলবিদ্যার পরিবর্তে ‘সিএসসি’ বা “কমিশন সাইনিং কনসেপ্ট” (ঈড়সসরংংরড়হ ঝরমহরহম ঈড়হপবঢ়ঃ) চালু করা হয়েছে।
বিল অনুমোদন: কাজের মান যাচাই-বাছাই না করেই ঠিকাদারদের বিল অনুমোদন করা হচ্ছে।
৩. সিন্ডিকেট ও ভীতি প্রদর্শন:
কিছু অসাধু মিডিয়াকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক দালালদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইল করা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়।
৪. নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ অপচয়:
প্রকল্প বণ্টনে প্রতিহিংসা ও পক্ষপাতিত্বের কারণে কাজের গুণগত মান বজায় থাকছে না।
অভিযোগ রয়েছে, জনগণের অর্থে নির্মিত সড়ক-মহাসড়ক এক বছরের মধ্যেই ধসে পড়ছে, অথচ বিল পরিশোধে কোনো বিলম্ব হচ্ছে না।
মন্তব্য:
সরকারি টাকায় উন্নয়ন নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট চক্রের পকেট ভারী করাই যেন এই দপ্তরের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহল এই দুর্নীতির প্রতিকার দাবি করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button