দুইদিন পর ফের অচলাবস্থার শঙ্কায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর

মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারা বাতিল ও বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণ দাবিতে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট
বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণসহ চার দফা দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণসহ চার দফা দাবিতে আবারও অচল হয়ে পড়তে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপ আগামী রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র দুইদিনের বিরতির পর, যা বন্দরকে চরম অচলাবস্থার মুখে ফেলতে পারে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর এবং মো. ইব্রাহিম খোকন ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণসহ দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার।এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত এবং চার্জশিট।এছাড়া আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও আইনগত হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতেও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা একই ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। উপদেষ্টার আশ্বাসে রমজান মাস এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।
তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দিয়েছেন।নেতারা এই পদক্ষেপকে অনৈতিক এবং আগুন নিয়ে খেলার মতো পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।তাদের অভিযোগ,বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।
রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েকদিন টানা ধর্মঘট চললে জেটিতে জাহাজের জট এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে সরকার।
শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে।রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন,যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার না করা হবে, ততক্ষণ বন্দরে কোনো কাজ চলবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন,মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম এবং ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,ধর্মঘট দীর্ঘ হলে বন্দর কার্যক্রমে ব্যাপক জট এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য, কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে এতে সরাসরি প্রভাব পড়বে।



