অভিযানআইন-শৃঙ্খলাআইন, ও বিচারপ্রশাসন

খোকন হত্যা মামলার পলাতক আসামি উজ্জ্বল মিয়া চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর

কিশোরগঞ্জের মিঠামাইন থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর খোকন হত্যা মামলার পলাতক আসামি উজ্জ্বল মিয়াকে (৩০) চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এই গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন থানায় দায়ের করা মামলা নং-১৩, তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩/৩৪১/৩০২/১১৪/১০৯/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি উজ্জ্বল মিয়া ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিল।

র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, উজ্জ্বল মিয়া চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৭ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের ওই দল পাহাড়তলী থানাধীন হাজীক্যাম্প এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃত উজ্জ্বল মিয়া (৩০) কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন থানার তেলিখাই গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম কুদ্দুস। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল মিয়া নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেছে এবং সে উক্ত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

খোকন হত্যা মামলাটি মিঠামাইন থানার একটি আলোচিত মামলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জের ধরে সংঘটিত ওই ঘটনায় খোকন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবার বাদী হয়ে মিঠামাইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও উজ্জ্বল মিয়াসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘটনার পর উজ্জ্বল মিয়া নিজের অবস্থান গোপন রাখতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিল। চট্টগ্রামে এসে সে পাহাড়তলী এলাকার হাজীক্যাম্প এলাকায় অবস্থান করছিল বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।
র‌্যাব জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারের পর উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে কিশোরগঞ্জে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব-৭ জানায়, হত্যা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা তৎপর। চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

র‌্যাব আরও জানায়, কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে আত্মগোপন করলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

খোকন হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের খবরে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

খোকন হত্যা মামলার পলাতক আসামি উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button