কুমিল্লানির্বাচনরাজনীতি

কুমিল্লা-১০ আসনে ত্রিমুখী লড়াই, ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ

‎‎মো: জাহাঙ্গীর আলম, লালমাই প্রতিনিধি।

‎কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট–লালমাই সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের দৌড় এখন ঘরে ঘরে আলোচনার বিষয়। বিএনপি বনাম জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ফলে এ আসনে ভোটের লড়াই ক্রমেই ত্রিমুখী রূপ নিচ্ছে।

‎‎জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছিল, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনটি বিএনপির জন্য অনুকূলে থাকবে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই হিসাব আর পুরোপুরি মিলছে না। বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র দল জামায়াতে ইসলামী এখন এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

‎‎মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত শুরু থেকেই জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে—প্রচারণার দিক থেকে তিনি এ মুহূর্তে তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন।

‎‎অন্যদিকে বিএনপিতে শুরুতে দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূইয়াকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গফুর ও মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার মধ্যে কোনো প্রকাশ্য কোন্দল নেই। বরং তারা একসঙ্গেই মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎‎এই আসনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রথমদিকে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যুক্ত থাকলেও আসন বণ্টন ও মতাদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে সেই জোট ভেঙে যায়। বর্তমানে কুমিল্লা-১০ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী।

‎মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী লালমাই উপজেলার সন্তান হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা—লালমাই উপজেলার একটি বড় অংশের ভোট তার দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রার্থীই নাঙ্গলকোট উপজেলার হওয়ায় সেখানে ভোটের বড় অংশ এই দুই দলের মধ্যেই ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‎‎এদিকে তরুণ ও অনির্ধারিত ভোটারদের ভূমিকা এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তরুণ ভোটার মাইন উদ্দিন বলেন, এবার সরকার কারা গঠন করবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে অরাজনৈতিক নবীন ভোটার এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের ভোটের ওপর। শুধু দলীয় কর্মীদের ভোটে জয় সম্ভব নয়। শেষ সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার বিকল্প নেই। পেশিশক্তি কিংবা অর্থ ব্যয় করে এবার জয় পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১০ আসনে মোট ১৫২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৯ জন।

‎‎সব মিলিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনে এবারের নির্বাচন কোনো সহজ সমীকরণে সীমাবদ্ধ নেই। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিন তরুণ, অনির্ধারিত ও সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button