আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রামপ্রশাসন

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট শ্রমিক-কর্মচারীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

মুহাম্মদ জুবাইর

ডিপি ওর্য়াল্ড ইজারার প্রতিবাদে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘট,বন্দরে কাজ বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘটের উত্তাপ রবিবারেও অব্যাহত রয়েছে।বন্দরে ধর্মঘট আন্দোলনে জড়িত হওয়ায় ছয়জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান,শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দুজন প্রবীণ নেতাসহ মোট ছয়জনকে বন্দর এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তাদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে আবুল কালাম, শামসুল মিয়া টুকু,রিপন এবং আসাদুল।ইব্রাহিম খোকন দাবি করেন,বন্দরের চেয়ারম্যান শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করতে শক্তি প্রয়োগ করতে চাইছেন।তিনি আরও বলেন,“শক্তি প্রয়োগ করলে আন্দোলন আরও কঠিন আকার নেবে।আলোচনা ছাড়া কোনো শক্তি প্রয়োগে আন্দোলন দমন করা সম্ভব নয়।

এ আন্দোলন শুরু হয়েছে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে,যদিও বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছিল।শনিবার থেকে তা পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে রূপ নিয়েছে। প্রধান কারণ হলো আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান‘ডিপি ওর্য়াল্ডকে’ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ।শ্রমিকরা চার দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘট শুরু করেছেন।

ধর্মঘটের কারণে বন্দরের সব জেটি,টার্মিনাল,কনটেইনার ডিপো ও বহির্নোঙরে কাজ বন্ধ রয়েছে।সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন গেটে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্দর এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা তৎপর।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে এখনও সরাসরি কোনো আলোচনার ব্যবস্থা হয়নি।তবে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button