নির্বাচন

‘আমি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই’: ভয়ের চাদর ছিঁড়ে নাগরিকের মাথা উঁচু করার গল্প

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

ভোটের অধিকার কেবল সংবিধানে লেখা একটি আইন নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা রক্ষার এক নীরব লড়াই। সেই লড়াইয়ের কথাই উঠে এসেছে অধ্যাপক এম এ বার্ণিকের সাম্প্রতিক লেখা ‘আমি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই’-এ। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন সাধারণ নাগরিকের মনের ভেতরে জমে থাকা ভয়, সংশয় এবং শেষ পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এই গল্প যেন হাজারো মানুষের অব্যক্ত যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি।

লেখাটির শুরুতেই লেখক ভোটের আগের রাতের এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। বন্ধ জানালা আর দরজার ওপাশেও যে অদৃশ্য ভয়ের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়, তা তিনি নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। বিছানায় শুয়ে নির্ঘুম রাতে লেখকের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দেয়— “আমি কি কাল নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব?”

লেখায় উঠে এসেছে পারিবারিক উৎকণ্ঠার চিত্রও। স্ত্রীর শঙ্কিত প্রশ্ন, “যদি না যাও?”-এর উত্তরে লেখক নীরব থাকেন। কিন্তু তাঁর কলম কথা বলে। তিনি লিখেছেন, “‘না যাওয়া’ এখন আর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়—এটা একধরনের আত্মসমর্পণ।” ভোরের আজানকে তিনি কেবল প্রার্থনার আহ্বান হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন সাহস সঞ্চয়ের উৎস হিসেবে।

ভোটকেন্দ্রের বর্ণনায় অধ্যাপক বার্ণিক ফিরিয়ে এনেছেন শৈশবের স্মৃতি। যে স্কুলে তিনি সত্য বলার শিক্ষা পেয়েছিলেন, আজ সেখানেই নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে তাঁর পা কাঁপছে। লাইনে দাঁড়ানো বৃদ্ধের বারবার ভোটার কার্ড হাতড়ে দেখা কিংবা তরুণের নতজানু দৃষ্টি—সবই যেন এক অঘোষিত আতঙ্কের বার্তা দিচ্ছে।

তবে রিপোর্টের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশটি হলো ভোট দেওয়ার মুহূর্তটি। পর্দার আড়ালে একাকী দাঁড়িয়ে বাবার সেই অমোঘ বাণী মনে করেছেন লেখক: “যেদিন মানুষ ভোট দিতে ভয় পাবে, সেদিন রাষ্ট্র আর তার থাকবে না।”

আঙুলের ডগায কালির দাগটি কেবল ভোট দেওয়ার চিহ্ন নয়, লেখকের কাছে এটি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কালি তাঁকে দুর্বল করেনি, বরং সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে তিনি অনুভব করেছেন—ফলাফল যা-ই হোক, নির্ভয়ে ভোট দিতে চাওয়াটাই তাঁর নাগরিকত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button