অন্যান্যরাজনীতি

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আবর্জনার স্তূপ থেকে শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নামফলক উদ্ধার: জনমনে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ৪৮ বছর পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত দুর্লভ ভিত্তিপ্রস্তর নামফলকটি উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেলে প্রেসক্লাবের একটি পরিত্যক্ত ও স্যাঁতসেঁতে গুদামঘরের আবর্জনার স্তূপ থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান অবস্থা প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্লাবের পুরোনো কাগজপত্র ও জঞ্জাল পরিষ্কার করার সময় পরিত্যক্ত গোডাউনের কাদা ও আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ফলকটি খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্ধারের সময় নামফলকটি ছিল কাদামাটিতে একাকার। পরবর্তীতে সেটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বর্তমানে ক্লাব অফিসে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিকৃতির অভিযোগ প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের তথ্যমতে, ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি (১১ ফাল্গুন ১৩৮৪, শুক্রবার) তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন এটি ক্লাবের সামনের দেয়ালে শোভা পেলেও, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের (পলাতক শেখ হাসিনার) অনুসারীরা ক্লাবের কর্তৃত্ব নেওয়ার পর নামফলকটি সরিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিহাস মুছে ফেলার হীন উদ্দেশ্যে এটিকে ময়লার গুদামে ফেলে রাখা হয়েছিল।

জনমনে প্রতিক্রিয়া ও আইনি বিশ্লেষণ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শীর্ষ স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। ইতিহাস বিকৃতিকারীদের এমন ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর বা ফলক সরিয়ে ফেলা, ভাঙা বা বিকৃত করা দণ্ডবিধির অধীনে ‘সম্পত্তি বিনষ্ট’ (Criminal Trespass/Mischief) বা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যার জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইতিহাস বিকৃতির সাথে জড়িত নেপথ্যের অপশক্তিকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও সচেতন নাগরিক সমাজ। একইসাথে উদ্ধারকৃত নামফলকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যথাস্থানে পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button