আইন-শৃঙ্খলাগাইবান্ধানির্বাচনপ্রশাসনরাজনীতি

গাইবান্ধায় ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রের ৩৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধা জেলার ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা, প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকাগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ (৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ) এবং পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ (১০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র রয়েছে। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১০টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনের ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলায় ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাঘাটা উপজেলায় ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলায় মোতায়েন থাকবে প্রায় এক হাজার ১০০ সেনাসদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে মোট ১৪টি র‍্যাব টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্যও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দুই জন করে পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিন জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ছয় জন পুরুষ ও চার জন নারী আনসারসহ মোট ১০ জন আনসার সদস্য এবং অতিরিক্ত ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার মোতায়েন থাকবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স রাখা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ ভোটার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও প্রশাসনের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button